ঈদযাত্রায় বাস ভাড়া ‘বাড়াচ্ছে’ সরকারি তালিকা

0
92
বাস কাউন্টারগুলোর সামনে যাত্রীদের চিরচেনা ভিড় নেই

ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়া ৮৯৫ টাকা। এই রুটে চলাচলকারী রজনীগন্ধা পরিবহনে এতদিন ৪০০-৪৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। তবে ঈদে ভাড়ায় ছাড় নেই। যাত্রী প্রতি ৮০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, যাত্রী পেতে সারাবছর কম নিলেও ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হয়, বাড়তি টাকা নয়।

সোমবার রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, আগের কয়েকদিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তবে সরকারি তালিকার কারণে বাস ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বছরের অন্যান্য সময় কম নিলেও ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।

মালিক-শ্রমিকরা জানান, তাদের আয়ের বড় অংশ আসে ঈদযাত্রা থেকে। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায়ও যাত্রী কম।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, যাত্রী সংকট চলছে। বাস মালিকরা হতাশ।

ভাড়া বেশি, তাই বাসের যাত্রী মোটরসাইকেলে 

গাবতলী বাস টার্মিনালের কাউন্টারের কর্মীদের ভাষ্য. অর্থনৈতিক সংকটে মানুষের হাতে টাকা নেই। তাই যাত্রী কম। তবে মালিক সমিতির এক নেতারা দাবি, গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেল সংখ্যা বেড়েছে। ঈদে ২০-২৫ লাখ যাত্রী মোটরসাইকেলে ঢাকা ছাড়েন। তাই বাসে যাত্রী সংখ্যা কমেছে।

তিনি আরও জানান, মহাসড়কে মোটরসাইকেল বন্ধে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু রোজার ঈদের ধারবাহিকতায় এবারও মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস রজনীগন্ধা পরিবহনের টিকেট মাস্টার নূর হোসেনের সঙ্গে ঈদুল ফিতরে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা হয়েছিল এই প্রতিবেদকের। এবারও কথা হলো। এবারও তিনি আগেরবারের মতো বলেন, গত ৩৭ বছরে ঈদে এত কম যাত্রী দেখিনি।

তিনি জানান, আজ সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি বাস ঢাকা ছেড়েছে। কিন্তু কোনো বাসেই ৪০টি আসন পূর্ণ হয়নি। দুই বছর আগেও ঈদের আগে গাবতলীতে যাত্রীর ভিড়ে পা ফেলা যেত না। আসন না পাওয়া যাত্রীরা অন্তত দাঁড়িয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ারও অনুরোধ করতেন। আর এবার ডেকেও যাত্রী পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই। ভাড়া শুনে চলে যাচ্ছে। বাসে যেতে ৮০০ টাকা লাগে। আর মোটরসাইকেলে ৪০০ টাকার পেট্রোল কিনে দু’জন যাত্রী চলে যায়।

সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় বাড়তি খরচ

ঢাকা-মেহেরপুরে রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৯৩১ টাকা। এই রুটের শ্যামলী এনআর পরিবহনে দু’দিন আগেই যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। এখন নেওয়া হচ্ছে ৯০০ টাকা। যদিও টিকিটে লেখা ৮০০ টাকা।

শ্যামলী এনআর পরিবহনের কাউন্টারের সামনে টিকিট দেখান মো. যুবায়ের নামে এক যাত্রী। তিনি জানান, রোববারও মেহেরপুরের গাংনী থেকে ৬০০ টাকায় ঢাকায় এসেছেন তিনি।

ঢাকায় কাজ করা চার শ্রমিক যাচ্ছেন মেহেরপুরের বামুন্দি। তাদের একজন মো. আয়নাল। তিনি জানালেন, তাদের কাছ থেকে তিন হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ টিকিটে লেখা তিন হাজার ২০০ টাকা।

এসব অভিযোগের জবাবে শ্যামলী এনআর’র ম্যানেজার মো. আমিনুল হক সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়ার তালিকা দেখিয়ে বলেন, ‘টিকিটে ভাড়া ৮০০ টাকা লেখা থাকলেও এতদিন ৬০০ টাকা নেওয়া হতো। ঈদে ৮০০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। যদিও তালিকার (সরকার নির্ধারিত) ভাড়া ৯৩১ টাকা।’

তার বক্তব্যের প্রতিবাদে যাত্রীরা জানান, ৮০০ নয়, ৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তখন আমিনুল হক বললেন, ঈদ উপলক্ষে ২০-৫০ টাকা বেশি নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পরিবহনটির মালিক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশের বক্তব্য জানা যায়নি। তিনি বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসিয়েশনের সহকারী সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৭৫৩ টাকা। এই রুটে এতদিন হানিফ পরিবহনে নেওয়া হতো ৬৫০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে যশোর পর্যন্ত গেলেও বেনাপোলের ভাড়া অর্থাৎ ৭৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

একইভাবে ঢাকা-খুলনা রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৮১৭ টাকা। গত শনিবার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে ৭০০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটের ভাড়া সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৯৪৪ টাকা। এতদিন নেওয়া হতো ৬৫০ টাকা।

হানিফের কাউন্টার ম্যানেজার অনিক কর্মকার বলেন, সারাবছর কম ভাড়া নেওয়া হয়। ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা বাড়তি ভাড়া নয়।

গাবতলীতে নজরদারির দায়িত্বে থাকা বিআরটিএ কর্মীরা বলেছেন, যাত্রীরা অনেক অভিযোগ করেছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দেখা যাচ্ছে, তালিকার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বছেন, সরকার নির্ধারিত তালিকার সমান ভাড়া তো নিলে কিছু করার নেই। বাড়তি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে খন্দকার এনায়েত বছেন, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আর কেউ বেশি ভাড়া নিলে বিআরটিএ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

রাজীব আহাম্মদ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.