কর্মবিরতি পালনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

0
342
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

সারাদেশে কর্মবিরতি পালনকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। রোববার ওই চিঠিতে অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালকদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ পর্যায়ে দাবি আদায়ের কোনো কর্মসূচি পালিত হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধিকন্তু সরকারি কর্মচারীরা এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা সরকারি শৃঙ্খলা বা আপিল বিধিমালা-২০১৮ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

চিঠিতে অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালকদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম বলেন, ‘এটি পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন। সারাদেশের ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকই এই কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে কি সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এটি সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন নয়। শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে আলোচনার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত আমাদের সঙ্গে বসবে।’

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, সারাদেশে তাদের কর্মসূচি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে। জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবিতে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন নিয়ে গঠিত মোর্চা ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষক এ কর্মবিরতি পালন করছেন। বুধবার ১৬ অক্টোবর অর্ধদিবস এবং কাল ১৭ অক্টোবর সারাদেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন বলে শিক্ষকরা জানান। বেতন বৈষম্য নিরসন না হলে শিক্ষকরা ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবেন এবং মহাসমাবেশ থেকে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে কর্মসূচি চলমান থাকবে।’ সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আমরা চাই কর্তৃপক্ষ হুমকি-ধমকি না দিয়ে দ্রুত ১১তম গ্রেড ও ১০ম গ্রেডের প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করুন। পাশাপাশি আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী, কেবল তিনিই পারেন আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে।’ প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কর্মসূচি পালনে বাধ্য করেছে। আমরা শিক্ষকরা দ্রুত সমস্যা সমাধান চাই।’

এ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আতিকুর রহমান বলেন, ‘২৩ অক্টোবর মহাসমাবেশ থেকে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

সংগঠনের নীতিনির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল্যাহ সরকার বলেন, ‘দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ শতভাগ আন্তরিক হোক, আমরা এটাই চাই।’

প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা আলোচনার পথ খোলা রেখেছি। তবে বৈষম্য নিরসন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে