মেয়েকে কোলে নিয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ মায়ের

0
405

মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ২ বছরের মেকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন টুলটুলি আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূ।

সোমবার সকালে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের দারোয়ানী রেল স্টেশনের কাছে শিশু কন্যা বৃষ্টি আক্তারকে কোলে নিয়েই ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। নিহত টুলটুলি ধনীপাড়া গ্রামের বাদাম বিক্রেতা তারেক হোসেনের স্ত্রী।

এলাকাবাসী জানায়, সোমবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাপ দিলে মা-মেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কয়া গোলাহাট পশ্চিম পাড়া গ্রামের বুদারু মামুদের মেয়ে টুলটুলির সঙ্গে ছয় বছর আগে বিয়ে হয় ধনীপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে তারেক হোসেনের। তাদের একমাত্র সন্তান দুই বছরের বৃষ্টি আক্তার। তারেক বাদাম ও বুট ফেরি করে বিক্রি করেন।

টুলটুলি বেগমের বড় ভাই দুলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তারেক প্রায় সময়ই মাদক সেবন করে আমার বোনের ওপর নির্যাতন চালায়। রোববার রাতে তারেক আমার বোনকে না জানিয়ে তার কানের দুল বিক্রি করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে তারেক আমার বোনকে বেদম মারধর করে। সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে টুলটুলি মেয়ে বৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তারেকের বাবা হামিদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, রাতে ছেলে এবং বৌমার মধ্যে কথা কাটাকাটি শুনতে পেয়েছি। সকালে বৌমা তার বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে নাতনিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যুর খবর পাই।

তারেক মাদকাসক্ত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে মেয়েকে নিয়ে টুলটুলি বেগম আত্মহত্যা করেছে। একই কারণে এর আগে তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একবার ছাড়াছাড়িও হয়েছিল। পরে সেটি মিটে গেলে দুজনে সংসার করছিল।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক ফিরোজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে