বসন্ত সমবায় বৌদ্ধ বিহারে ২৫তম কঠিন চীবর দান উদযাপিত

0
358
বসন্ত সমাবায় বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর উৎসর্গ কালে পূণ্যার্থীবৃন্দ।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় বালুখালী ইউনিয়নে বসন্ত গ্রামে ২৫তম শুভ কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান উদযাপন করা হয়েছে।আজ ২৩ অক্টোবর রোজ রবিবার বসন্ত সমবায় বৌদ্ধ বিহারে এ উপলক্ষে দিন ব্যাপী ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সকালবেলায় বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিস্কারদান, বুদ্ধমুর্তি দানসহ ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে নানা প্রকার উপকরণাদি দান করা হয়। স্থানীয় লোকজনসহ দুরদুরান্ত হতে পূণ্যার্থীরা এ উপলক্ষে বিহারে সমাবেত হয়েছে।

বসন্ত সমবায় বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে উপস্থি ভিক্ষু সংঘ।

উপস্থিত পূণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন নান্দ্যাসার থের, পূণ্য কীর্তি থের, মৈত্রী বিহার রাঙ্গামাটি সদর।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম কীর্তি মহাথের, সংঘারাম বিহার ভেদভেদী রাঙ্গামাটি সদর;

কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান শুরু হয় বিকালবেলায়। দ্বিতীয় পর্বের এ অনুষ্ঠানে অষ্টপরিস্কারদান, বুদ্ধমুর্তিদান, কল্পতরুদান, হাজার বাতিদান, আকাশ প্রদীপ বা ফানুশ বাতিদান ও কঠিন চীবর দানসহ নানা প্রকার দানীয় সামগ্রী ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে দান করা হয়।

বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুরেশ চন্দ্র চাকমা স্বাগত বক্তব্যে বলেন ‘ আজ ২৫তম কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান আয়োজন করতে পারা অত্র এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা বিশ্বাস ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। এ উপলক্ষে যারা যারা কায়িক মানুসিক ও আর্থিক সাহায্য করেছেন সবার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

১২৩ নং বসন্ত মৌজা হেডম্যান কুলাস বিকাশ দেওয়ান বক্তব্য প্রদান করছেন।

আরো বক্তব্য রাখেন ১২৩নং মৌজার হেডম্যান কুলাস বিকাশ দেওয়ান।তিনি বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয়, যুবসমাজের অবক্ষয় বর্তমান সময়ে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।বর্তমানে বড়জনের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধাবোধ অনেকখানি কমে গেছে। এ ব্যাপারে যুবশ্রেণীকে দায়িত্বশীল হয়ে সমাজ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে, নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।’

৫ং বালুখালী চেয়ারম্যান বিজয় গিরি চাকমা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করছেন।

৫নং বালুখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় গিরি চাকমা তাঁর বক্তব্যে বলেন,‘ না জেনে শুনে ধর্ম করা ঠিক নয়।বিভিন্ন ধর্মগুরুরা ধর্মকে অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ জনগণকে অপথে বিপথে নিয়ে যাচ্ছেন। সে জন্য বুদ্ধ ধর্মকে বুঝতে হলে ত্রিপিট বই পড়া দরকার ও বনভান্তের দেশিত ধর্মের মত আচরণ করা দরকার। বৌদ্ধ ধর্মের মূল অমৃতবাণী পঞ্চশীল, অষ্টশীল, চতুরার্য্য সত্য ও আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথ ছাড়া অন্য ধর্ম আচরণে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।’

কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানে উপস্থিত পূণ্যার্থীবৃন্দ।

স্বধর্ম দেশনা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিহার অধ্যক্ষ ধর্ম কীর্তি মহাথের।কঠিন চীবর দান করলে যে সব পূণ্য লাভী হওয়া যায় তার সবিস্তারে বর্ণনা প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে আরো দেশনা প্রদান করেন মঙ্গল জ্যোতি থের, মৈত্রী বিহার রাঙ্গামাটি সদর; সুমনা জ্যোতি মহাথের সভাপতি পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ কাউখালী শাখা ও বিহার অধ্যক্ষ ঘিলাছড়ি পঞ্চকল্যাণ বৌদ্ধ বিহার এবং পূণ্য জ্যোতি মহাথের সভাপতি পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ পৌর শাখা রাঙ্গামাটি ও বিহার অধ্যক্ষ মৈত্রী বিহার রাঙ্গামাটি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে