প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে পাকিস্তানের দাবি নাকচ

0
386
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

সব বড় ঘটনার শুরুটা হয় ছোট্ট ঘটনা দিয়ে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। হলিউড ও বলিউডের জনপ্রিয় তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া একটা টুইট করলেন। মাত্র দুটো শব্দ। ‘জয় হিন্দ’। হ্যাশট্যাগ ভারতীয় বিমানবাহিনী। ব্যাস, বিতর্ক আর জটিলতার শুরু এখান থেকেই!

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের বোমা হামলায় ৪৯ জন পুলিশ নিহত হন। এর বিপরীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা করে ভারতের বিমানবাহিনী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই টুইট। আর তাতেই বেজায় খেপেছে পাকিস্তান। কেননা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত।

এই ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূতের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায় পাকিস্তান। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে অপসারণের দাবির সেই আবেদনে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের কয়েক হাজার নাগরিক। এই আবেদন অনলাইনে প্রকাশ করে ইউনিসেফ আর জাতিসংঘকে ট্যাগ করা হয়। বলা হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যুদ্ধকে উৎসাহ দিয়েছেন। দুটি পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুধু ক্ষতি আর মৃত্যুই ডেকে আনবে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিরপেক্ষ থাকা উচিত। কিন্তু তিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষে টুইট করেছেন। তাই তিনি আর শুভেচ্ছাদূত থাকতে পারেন না।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

 

এত দিন পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ইউনিসেফ বা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কিন্তু নীরবতার পাঁচ মাস পর সম্প্রতি জাতিসংঘের কাছে কঠোর ভাষায় লেখা একটা চিঠি পাঠান পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারি। চিঠির বক্তব্য একটাই। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন। তাই তিনি কোনোভাবেই আর ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত থাকতে পারেন না। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত মিসেস প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংকটে মোদি সরকারের পক্ষ নিয়েছেন। যে মোদি সরকার কাশ্মীরের মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূলের কাজ করছেন।

শিরিন মাজারি ওই চিঠিতে আরও জানান, মোদি সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মতাদর্শের মিল পাওয়া যায়।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

শিরিন মাজারি চিঠিটি শেষ করেছেন এভাবে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানকে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছে। সেটিকেও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি, যা কোনোভাবেই একজন শুভেচ্ছাদূতের আচরণ হতে পারে না। তাই অবিলম্বে তাঁকে এই পদ থেকে অপসারণ করা না হলে বিশ্বব্যাপী এই পদের মর্যাদা ও গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদকে সবাই ঠাট্টার বস্তুতে পরিণত করবে।

এত ঘটনার পর এবার এসেছে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। রায় সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বিশ্বতারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পক্ষে। ই–টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, প্রত্যেক মানুষ তার আগ্রহের বিষয়ে মতপ্রকাশ করার অধিকার রাখে। তাদের ব্যক্তিগত মতামত বা কর্মকাণ্ড ইউনিসেফকে সব সময় প্রভাবিত করবে না। প্রিয়াঙ্কা যদি ইউনিসেফের পক্ষ হয়ে কোনো মন্তব্য করতেন, তখন সেটি তাঁর পদকে প্রভাবিত করত।

তাই প্রায় পাঁচ মাস পর প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতেই পারেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে