ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধি, যাত্রীরা ক্ষুব্ধ

0
253
টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে সোনিয়া ও সকাল-সন্ধ্যা এসি বাস পরিবহনের কাউন্টার।

ধনবাড়ী ও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় চলাচলকারী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া হঠাৎ করেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। কোনোরূপ নিয়মনীতি না মেনে এ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ যাত্রী ও নাগরিক সমাজ।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে থাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা রুটে ২০১৪ সালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালু করা হয়। টাঙ্গাইল থেকে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অনুরূপভাবে ঢাকা থেকেও প্রতি ঘণ্টায় একটি করে বাস টাঙ্গাইলের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ২০১৬ সালে ধনবাড়ী থেকেও ঢাকা রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চলাচল শুরু হয়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে সোনিয়া এন্টারপ্রাইজ ও সকাল-সন্ধ্যা নামে দুটি বাস চলাচল করে। আর ধনবাড়ী-ঢাকা রুটে চলে সোনিয়া-বিনিময় সার্ভিসের বাস।

শুরু থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২৫০ টাকা। আর ধনবাড়ী-ঢাকায় ৪০০ টাকা। প্রতিবছর ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত বর্ধিত ভাড়া আদায় করা হতো এসব বাসে। এবারও ঈদুল আজহার আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে ২৫০ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হয়। ঈদের মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা ২৫০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা নেওয়া শুরু হয়। একই ভাবে ধনবাড়ী থেকে ঢাকা ৪০০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিন বাস টার্মিনালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টার দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীরা এভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করায় ক্ষুব্ধ। শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা শামীম হাসান জানান, তিনি নিয়মিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে যাতায়াত করেন। সেবার মান না বাড়িয়ে এভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা অযৌক্তিক। আবদুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে জড়িত। তাই ভাড়া বৃদ্ধি করলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রশাসনও নীরব থাকে।

টাঙ্গাইল সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক আবু নাঈম আহেমেদ বলেন, গত জুলাই মাসে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভায় মালিক সমিতির নেতারা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তোলেন। তারপর ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে ৫০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।

টাঙ্গাইল নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব মীর মেহেদী বলেন, এভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা মেনে নেওয়া যায় না। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বর্ধিত ভাড়া কমানোর দাবিতে মালিক সমিতি ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক (বাস) রাশেদুর রহমান ওরফে তাবিব বলেন, হুট করে ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সভায় ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। সেবার মান ঠিক রাখার জন্যই এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে