এবার বিতর্কের মধ্যে সৌরভ

0
901
বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখিত পত্র পাঠিয়েছেন ভারতের স্কোরাররা। ছবি: এএফপি

বিসিসিআই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু ক্রিকেটের একটি অবিচ্ছেদ্য ‘অংশ’-এর প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আচরণ জন্ম দিয়েছে প্রশ্নের।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন চলে না। গত চার বছরে শুধু মামলা-মোকদ্দমাতেই ২০০ মিলিয়ন রুপির বেশি খরচ করেছে বিসিসিআই। অথচ এই একই বোর্ড এ মৌসুমে ৬০ বছরে পা রাখা ক্রিকেট স্কোরারদের একরকম জোর করেই অবসরে পাঠিয়েছে। এমন খবরই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভুক্তভোগী স্কোরারদের অবসরে পাঠানো নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। এমনকি কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। এ মৌসুমে তাঁদের কাজে না রেখে বিষয়টি কার্যকর করেছে বিসিসিআই। কয়েকজনকে তো ম্যাচ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে।

ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেন স্কোরার। তাঁদের ‘আনসাং হিরো’-ও বলা হয়। ম্যাচের রানসংখ্যা ও উইকেট থেকে চুলচেরা সংখ্যা-তথ্য-উপাত্ত রাখেন তাঁরা। স্কোরারদের নিখুঁত কাজের ভিত্তিতেই পরে নানা রকম পরিসংখ্যান বের করা হয়। কিন্তু বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে ভারতের স্কোরাররা ঠিক মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, অবসর পাঠানোর বিষয়টি বোর্ড অন্তত যথাযথ নিয়মে তাঁদের জানাতে পারত।

৬০ বছরে পা রাখা স্কোরারদের একরকম জোর করেই অবসরে পাঠিয়েছে বিসিসিআই। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোরারদের কিছুই জানায়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড

বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীর কাছে এ নিয়ে লিখিত কাগজ জমা দিয়েছেন প্যানেলভুক্ত স্কোরাররা। টাইমস অব ইন্ডিয়া সেখান থেকে একটি উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছে, ‘আসছে মৌসুমই তোমাদের চূড়ান্ত মৌসুম—এমন কিছু জানালে সেটা আরও ভালো হতো। স্কোরাররা এটা ভালো মনে মেনে নিতে পারত। কিন্তু তা না হয়ে খবরটি আঘাত হয়ে এসেছে।’ সংবাদমাধ্যমটি এ নিয়ে বিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

স্কোরাররা আরেকটি কারণে বিসিসিআইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ। বোর্ড থেকে তারা আম্পায়ার কিংবা ম্যাচ রেফারিদের মতো মর্যাদা ও সুযোগ পেয়ে থাকেন না। কিন্তু তাঁদের অবসরে পাঠানো হয়েছে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের মতো করেই। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কোরার, ‘আমরা বিসিসিআইয়ে তাদের (আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি) মতো চাকরি করি না, তাহলে অবসরে পাঠানো হয় কীভাবে? এ ছাড়াও আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিরা অনেক বেশি ম্যাচ ফি এবং পেনশন পেয়ে থাকেন। আমাদের এমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। স্কোরিং শুরু করেছিলাম ভালোবাসা থেকে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি।’

আরেকটি বিষয়, আর কোনো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে স্কোরারদের অবসর নেওয়ার বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। বিসিসিআই সভাপতিকে পাঠানো লিখিত পত্রে স্কোরারদের ভাষ্য, ‘অনেক জায়গায় পেশাদার ক্যারিয়ার শেষে স্কোরিংকে বহু লোক সিরিয়াসলি নিয়ে থাকে। এ বছর বিশ্বকাপ ফাইনালে এক স্কোরারের বয়স ছিল ৭০ বছরের বেশি—বিসিসিআইকে পাঠানো চিঠিতে এ তথ্যও জানিয়েছেন স্কোরাররা। সংবাদমাধ্যমটিকে তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন, ‘আমাদের আম্পায়ারদের মতো ফিটনেসের প্রয়োজন নেই। যত দিন পর্যন্ত চোখ ভালো থাকবে এবং শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করব তত দিন এটা কোনো সমস্যা না।’

বিসিসিআইয়ের কাছে স্কোরারদের দাবি, অবসরে পাঠানো স্কোরারদের অনতিবিলম্বে ২০১৯-২০ মৌসুমের জন্য কাজে ফেরানো হোক। অবসর নীতিমালা ঠিক করা হোক তাঁদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই স্কোরার সোজাসাপ্টাই বলেছেন, ‘২০০৪ সালের পর আর নতুন কোনো (স্কোরার) নিয়োগ হয়নি। তাই ব্যাক আপ না রেখে বর্তমান স্কোরারদের কীভাবে অবসরে পাঠায়? কোনোরকম শৃঙ্খলা নেই।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.