‘অতিথিরা আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে বের হন’

0
642
ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অতিথিদের জুতা। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পর আগত অতিথিরা আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে এবং কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে হল থেকে বের হন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একজন বার্তা সংস্থা এএফপিকে এমনটাই জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ ফরহাগ নামের ওই ব্যক্তি জানান, যখন বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয় তখন তিনি অনুষ্ঠানস্থলে নারীদের জন্য নির্ধারিত অংশে ছিলেন। তাই প্রাণে বেঁচে যান।

তিনি বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণের পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে পুরো হলরুম ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। পুরুষদের জন্য নির্ধারিত অংশে থাকা সকলেই নিহত বা আহত হয়েছেন।’

বিস্ফোরণের দুই ঘণ্টা পর তিনি যখন এএফপির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছিলেন তখনও হলরুম থেকে মৃতদেহ বের করা হচ্ছিল।

হামলার কিছু সময় পরেই ভাইরাল হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে হলের বাইরে এক ব্যক্তিকে রক্তমাখা কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, যিনি ভাঙা গলায় তার ভাইকে খোঁজার কথা বলছিলেন।

আফগানিস্তানের স্থানীয় সময় শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী এই বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৬৩ জন নিহত এবং ১৮২ জন আহত হয়।

আত্মঘাতী এই হামলায় সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান। এছাড়া অন্য কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলায় ৬৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুসরাত রাহিমি এএফপিকে বলেন, বোমা বিস্ফোরণে ৬৩ জন নিহত ও ১৮২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

এর আগে গত ১২ জুলাই আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়। এই অঞ্চলের ক্রমেই কার্যক্রম বাড়িয়ে চলা জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.