ষষ্ঠ-নবমের ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন নির্ধারিত দিনে শেষ ৫ ঘণ্টায়, সীমিত পরিচালনা ফি

0
48
নতুন শিক্ষাক্রমের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন

নতুন শিক্ষাক্রমের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন শুরু আগামী ৩ জুলাই। ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন চলবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। এরই মধ্যে সারা দেশে বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিকের ষাণ্মাসিকে বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা ও মূল্যায়ন পরিচালনায় সীমিত পরিমাণে পরিচালনা ফি নেওয়াসহ নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সেসব নির্দেশনার মূল চিঠি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশ করেছে।

সাধারণ নির্দেশনার ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২-এর আলোকে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে মূল্যায়নের সময়সূচি ও ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নের আওতায় যেসব অধ্যায় বা শিখন অভিজ্ঞাগুলো নেওয়া হয়েছে, তার একটি বিষয়ভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

সাধারণ নির্দেশনার মধ্যে আছে

ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরুর আগেই অর্থাৎ ৩ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পাদিত সব বিষয়ের শিখন অভিজ্ঞতার পারদর্শিতার নির্দেশকগুলো নৈপুণ্য অ্যাপে ইনপুট দিতে হবে।

মূল্যায়ন কার্যক্রম চলাকালে ৩ থেকে ৩০ জুলাই নির্দিষ্ট দিবসে মূল্যায়ন কার্যক্রম ব্যতীত ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির কোনো শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

পাঠানো সময়সূচি অনুসারে নির্ধারিত দিনে একটি বিষয়েরই মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত বিষয়ের মূল্যায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত দিনেই শেষ করতে হবে। আগের মতো কোনো শ্রেণির একটি বিষয়ের মূল্যায়ন কার্যক্রম একাধিক দিনে করা যাবে না।

বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন কার্যক্রম নির্ধারিত দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করতে হবে। তবে মূল্যায়ন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে একটি মধ্যবর্তী বিরতি দেওয়া যেতে পারে।

মূল্যায়ন কার্যক্রমে হাতে-কলমে কাজ ও কার্যক্রমভিত্তিক লিখিত অংশে দুই ধরনের কার্যক্রম আছে। হাতে-কলমে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও লিখিত অংশের জন্য প্রয়োজনীয় খাতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করতে হবে।

বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নে উপকরণে বৈচিত্র্য রয়েছে, যা বিস্তারিত মূল্যায়ন নির্দেশিকায় উল্লেখ করা থাকবে। মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উপকরণ সরবরাহের জন্য সাধারণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে—মূল্যায়ন কার্যক্রমের হাতে–কলমে কাজের মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় পোস্টার তৈরির জন্য সাদা বা রঙিন কাগজ, সাইন পেন, কাঁচি, আঠা বা গাম ইত্যাদি। লিখিত অংশে বলা হয়েছে, ১৬ পাতার খাতা, প্রয়োজনে অতিরিক্ত পাতা সরবরাহ করতে হবে।

মূল্যায়নপত্র অংশে বলা হয়েছে, সরবরাহ করা মূল্যায়নপত্র থেকে শিক্ষার্থীর নির্দেশনা ও মূল্যায়ন বা প্রশ্নপত্র অংশটি ফটোকপি করে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করতে হবে।

উপকরণের উদাহরণ অংশে বলা হয়েছে, উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কোনো উপকরণই যেন ব্যয়বহুল না হয়। রিসাইকেল, রিইউজ ও আপসাইকেল উপকরণ ব্যবহার করতে হবে।

অভিভাবক বা শিক্ষার্থীকে উপকরণ সরবরাহের জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া যাবে না।

মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছ থেকে সীমিত পরিমাণে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা ফি নেওয়া যেতে পারে।

মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মূল্যায়ন নির্দেশনা মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরুর আগের দিন নৈপুণ্য অ্যাপের প্রতিষ্ঠান ড্যাশবোর্ড (master.noipunno.gov.bd) ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন নির্দেশনা মূল্যায়ন কার্যক্রমের সময়সূচি অনুসারে নির্ধারিত দিনের আগের দিন পাওয়া যাবে।

ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা শেষে শিক্ষার্থীর অর্জিত পারদর্শিতার রেকর্ডের ভিত্তিতে নৈপুণ্য অ্যাপে পারদর্শিতার নির্দেশক (পিআই) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইনপুট দিতে হবে।

মূল্যায়নের প্রয়োজনে ছুটিতে অনলাইন ক্লাস

এদিকে এর আগে এনসিটিবির অপর এক চিঠিতে শিক্ষকদের জন্য বলা হয়েছে, ১২ জুন পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চলার অভিজ্ঞতাগুলো শেষ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যেহেতু ১২ জুনের পরে ছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, বন্ধের আগে যদি ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত কোনো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প উপায় অবলম্বন করুন। বিকল্প উপায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্নের জন্য পাঁচটি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো—

বন্ধের আগেই শিক্ষার্থীকে বন্ধে করণীয় অভিজ্ঞতার ধাপগুলো কী কী, তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিন।

শিক্ষার্থীর বিকল্প কোন কোন কাজ পর্যবেক্ষণ করে তার পারদর্শিতা যাচাই করবেন, তা জানিয়ে দিন।

কোথাও দলগত কাজ, পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ থাকলে, তা বিকল্প উপায়ে (উদাহরণস্বরূপ দলগত কাজের বদলে একক কাজ, পরিবারের সদস্যদের থেকে তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণের কাজটি বাড়ির আশপাশের পরিবেশ থেকে বা ভিডিও দেখে বা ডকুমেন্ট পড়ে সম্পন্ন করা যেতে পারে) কাজটি সম্পন্ন করার কৌশল বলে দিন।

কাজ শেষে সক্রিয় পরীক্ষণের বদলে শিক্ষার্থী কী অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবেন, তার ধারণা ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করে দিন।

প্রয়োজনে অনলাইন ক্লাস করে, অভিভাবকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে ও মোবাইল গ্রুপে নির্দেশনা প্রদান করে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বসে কাজ পর্যবেক্ষণ করুন এবং ফিডব্যাক প্রদান করুন। #explore #everyone #বাংলাদেশ #নতুনশিক্ষাক্রম #মূল্যায়ন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.