ডিসেম্বরে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন যাচাই বাচাই শুরু হবে

0
1043
পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা শেষে কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি(অব) আনোয়ার উল হক, সন্তু লারমা, ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় (ছবি হাতে ডান পাশ হতে)।

আজ পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর আবারোও এ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভূমি বিরোধের আবেদন গুলো যাচাই বাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ শুরু করা হবে।

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বর্তমান অফিস খাগড়াছড়িতে থাকলেও রাঙ্গামাটি জেলার ভূমি বিরোধগুলো নিষ্পত্তিতে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ভবনে একটি নতুন অফিস করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে আজ কমিশন। এ তথ্য জানিয়েছেন পার্বত্য ভূমি নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি (অব) আনোয়ার উল হক।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউজে সভা শুরু হয়ে দুপুর ১টা সমাপ্ত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হলে কমিশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার উল হক এ সব কথা বলেন। তিনি আরো জানান রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ভবনে নতুন অফিস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী সভাগুলো সেখানে অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়(সন্তু)লারমা, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা কমিশনের সচিব মোঃ আলী মনসুর। সভায় যোগদান করেননি কমিশনের সদস্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, বোমাং রাজা, মং রাজা বা তাদের কোন প্রতিনিধি।

সাংবাদিকদের সামনে সন্তু লারমা বলেন, ‘ভূমি সমস্যা একটি জঠিল বিষয়, এর সাথে সব সমস্যাগুলো জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ২২টি বছর অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক জেলা পরিষদের হাতে ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়টি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। এটি হস্তান্তর না হওয়ার কারণে সবকিছু থমকে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান হবে না। আজ ২২টি বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি, তাই সরকার সহ আর্ন্তজাতিক সংস্থাগুলোর এ বিষয়টি ভাবা উচিত। পার্বত্য চুক্তি এমনি এমনি হয়নি, এখানকার মানুষের অধিকার, জীবন মান উন্নয়ন ও শান্তি শৃঙ্খলা নিয়েই এই চুক্তি। কিন্তু সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করে কালক্ষেপন করছে। এত করে পাহাড়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কাজ সুন্দরভাবে হবে বলে আশা রাখি।’

ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের মাধ্যমে পাহাড়ে নিরোপেক্ষভাবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ কমিশনের বিধিমালা প্রনয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে যে সুপারিশ প্রেরণ করেছে সেটি দ্রুত প্রনয়ন করা হলে কমিশনের কাজ এগিয়ে যাবে।

এযাবৎ ২২হাজারেরও অধিক আবেদন কমিশনে জমা পড়েছে বলে কমিশন সুত্রে জানা যায়। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ২০০১ সালে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন করা হয়। আইনে কিছু অসামঞ্জস্য থাকায় আঞ্চলিক পরিষদ আপত্তি জানালে ২০১৬ সালে সরকার আইনটি সংশোধন করে। এরপর বিচারপতি(অব) আনোয়ার উল হককে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়।তার মেয়াদ শেষ হলেও দ্বিতীয়বারের মত তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে একাধিক চেয়ারম্যান নিয়োগ পেলেও সদস্যদের অনাস্থার ফলে কমিশনের কাজ এগোতে পারেনি।

আইনটি সংশোধনের পর উভয় পক্ষ সম্মতি জ্ঞাপন করলে কমিশনের কার্যক্রম শুরু করা হয়।কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিরোধপূর্ণ জমির মালিকদের কাছ থেকে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষে আবেদন আহবান করা হয়। সেই থেকে কমিশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে