বিএনপি-জামায়াত আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না

0
91
ছবি: ফাইল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাজার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করলেও এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। ওই বোমাবাজ, সন্ত্রাসী, গ্রেনেড হামলাকারী, এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি ও মানুষের অর্থ আত্মসাৎকারী এরা (বিএনপি-জামায়াত) আর কোনোদিন এ দেশের ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ এদের কোনোদিন মেনে নেবে না।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। তাঁর স্বাধীন করা বাংলাদেশে কোনো মানুষ অন্ন-বস্ত্রের কষ্টে থাকবে না। গৃহহীন থাকবে না, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না। আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, দেশ নাকি শেষ করে দিয়েছি! চোখ থাকতে অন্ধ হলে তাকে তো কিছু দেখানো যায় না। ভাঙা রেকর্ডের মতো বিএনপি বলেই যাচ্ছে, এ সরকার কিছুই করেনি। এই যে এত রাস্তাঘাট, এত উন্নয়ন, আজ দেশে খাদ্যাভাব নেই। বারো মাস সবকিছু খেতে পাচ্ছেন– সেটি তো এই সরকারই গবেষণা করে উদ্যোগ নিয়েই করে দিয়েছে। সেগুলো খেতে খুব ভালো লাগে কিন্তু বদনামটা করার সময় গাল ভরে বলে যায়। খেয়েদেয়ে নাদুসনুদুস হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একখান মাইক লাগিয়ে সারাদিন কথা বলেই যাচ্ছে। জানি না, এত মিথ্যা কথা কোথা থেকে আসে তাদের?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নাকি দেশের কোনো উন্নয়ন করিনি, সবকিছু ফোকলা ও ধ্বংস করে দিয়েছি! নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। মেট্রোরেল করেছি, কর্ণফুলী টানেল করছি। একদিনে একশ সেতু, একশ রাস্তা নির্মাণ কোন সরকার করতে পেরেছে? এসব কী উন্নয়ন নয়? চোখ থাকতেও কেউ অন্ধ হয়ে থাকলে তাদের কিছুই চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে দেশের বাজেট ছিল মাত্র ৬২ হাজার কোটি টাকা। আর আমরা ৬ লাখ কোটি টাকার ওপরে বাজেট দিয়েছি। দেশের উন্নয়ন না হলে লাখো কোটি টাকার এতবড় বাজেট কীভাবে দিলাম?

শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশকে ধরেই ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। শিক্ষা-দীক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানে একটি স্মার্ট জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হবে, এ দেশ আরও এগিয়ে যাবে। এই বাংলাদেশ জাতির পিতার বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু যেভাবে চেয়েছিলেন, সেভাবেই বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলবে। জাতির পিতার জন্মদিনে এটাই আজকের প্রতিজ্ঞা। দলের নেতাকর্মীকেও সেভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এরা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে। এ জন্য যখনই ক্ষমতায় এসেছে, মানুষের জন্য কিছুই করেনি। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া– এদের তো শেকড় নেই। যারা খুন-খারাবি, হত্যা-ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছে বিএনপি। ক্ষমতায় থেকে তারা পাঁচবার দুর্নীতিতে দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে। দেশ ধ্বংস করে আবার এক কোটি ভুয়া ভোটার তৈরি করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। মানুষ মেনে নেয়নি। ভোট চুরির অপরাধে মানুষ আন্দোলন করে তাদের ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিল। তাদের কারণেই দেশে জরুরি অবস্থা হয়।

খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানের দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, চুরি তো চুরি, সেই চুরি আবার ধরা পড়ল আমেরিকার এফবিআইয়ের হাতে। ধরা পড়ল সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গিয়ে। সরকার অবশ্য ৪০ কোটি টাকা ফেরত আনতে পেরেছে। এখনও বিএনপি নেতাদের বহু টাকা বিভিন্ন জায়গায় ফ্রিজ করা আছে। তাহলে এই বিপুল পরিমাণ টাকা কাদের টাকা? জনগণের টাকাই এরা পাচার করেছে। আর জনগণকে কী দিয়েছে? গ্রেনেড হামলা, গুলি, খুন, হত্যা ছাড়া আর কিছু দিয়ে যেতে পারেনি।

তিনি বলেন, রমজান মাসে মানুষের যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার করছে। তবে সবার নজর রাখতে হবে, কেউ যেন খাদ্য মজুত বা কালোবাজারি করতে না পারে। তাঁর সরকারের গত ১৪ বছরের ব্যাপক উন্নয়ন ও সফলতার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের চিত্র জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে তুলে ধরার জন্য দলের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা যে কাজগুলো করছি, এটি অন্তত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে বলতে হবে। কারণ এরা (বিএনপি-জামায়াত) এই একটি মিথ্যা বারবার বলে বলে সেই মিথ্যাটাকেই সত্য করতে চায়।

সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, অধ্যাপক মেরিনা জামান কবিতা, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী। সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.