২০০ বছরে এমন তাপমাত্রা দেখেনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

0
118

দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিল ও মে মাসে দাবদাহ তীব্র ছিল। সেই দাবদাহ এখনো চলছে। গরমের সঙ্গে আর্দ্রতার কারণে এই অঞ্চলের মানুষের হিট স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, কিডনি সমস্যা এমনকি পানিশূন্যতায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি। সিএনএনে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন সারলোত্তা দোতোক্রিস্টিনা শভেদা ও লো রবিনসন।

ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরের ব্যস্ত রাজপথে প্রতিদিন অসংখ্য মপেড (প্যাডেলযুক্ত মোটরসাইকেল) ও মোটরবাইক ছুটে চলছে। কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছেন, কেউ যাত্রী পরিবহন করছেন। আবার কেউ ভোক্তার কাছে পার্সেল বা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।

এমনই একজন ফোঙ (৪২)। ভোর পাঁচটায় তিনি মপেড নিয়ে কাজ শুরু করেন। অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে ভোরে ভোরে কাজে বের হয়ে পড়েন। টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করেন।

কিন্তু গত দুই মাসে ভয়ানক দাবদাহ পুরো দেশকে গিলে ফেলেছে। প্রতিদিনই তাপমাত্রা মোটামুটি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ওপরে থাকে। অসহনীয় এই পরিস্থিতি ফোঙের কাজকে বেশ কঠিন করে তুলেছে। প্রচণ্ড গরম থেকে নিজেকে বাঁচাতে কাজে বের হওয়ার সময় মাথায় হ্যাট পরেন। ভেজা তোয়ালে ও কয়েক বোতল পানি সঙ্গে রাখেন।

হ্যানয়ে মে মাসজুড়ে তাপমাত্রা গড়ে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল।

ফোঙ বলছিলেন, ‘হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে আমাকে কাজ বন্ধ রাখতে হবে। এতে তো আমার সংসার চলবে না।’

ফোঙ তাঁর কাজের সবচেয়ে জরুরি জিনিস মোবাইল ফোনকে তাপমাত্রা থেকে রক্ষা করতে ছোট্ট একটি ছাতা ব্যবহার করেন। কাজের জন্য তিনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘গ্রাব’ প্ল্যাটফরম ব্যবহার করেন। কোনো কারণে ফোনটি ভেঙে গেলে বা তাপে ব্যাটারি নষ্ট হলে তাঁর আয়ের পথ বন্ধ
হয়ে যাবে।

হ্যানয় শহরের ডং ডা এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন দিন ভান হাং (৫৩)। দিনভর ব্যস্ত সড়কের আবর্জনা পরিষ্কার করেন তিনি। দিন ভান বলেন, ‘দুপুর আর বিকেলের প্রথম প্রহরে খরতাপ এড়ানো সম্ভব নয়। অতি তাপমাত্রায় আবর্জনা থেকে অসহ্য গন্ধ ছড়ায়। আমার কাজ এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আমি ও অন্যান্য শ্রমিকের স্বাস্থ্যের ওপর গরমের বিরূপ প্রভাব পড়ছে।’

দিন ভান আরও বলেন, ‘আমি খুব সকালে এবং বিকেলে বা সন্ধ্যায় কাজ শুরুর চেষ্টা করি। দুপুরে যখন তাপমাত্রা ভয়াবহ মাত্রায় থাকে, তখন ফুটপাতে ছায়ায় ঝিরিয়ে নিই। এরপর বিকেলে আবার কাজ শুরু করি।’

ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় ফোঙ আর দিন ভান হচ্ছেন লাখ লাখ চালক, হকার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, কৃষকসহ খোলা আকাশে কাজ করা মানুষের প্রতিচ্ছবি। তাঁদের রেকর্ড দাবদাহের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

এসব শ্রমিক এমন বিরূপ আবহাওয়ায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। ভয়াবহ মাত্রার গরম তাঁদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ইতিমধ্যে তাঁদের পেশাকে বিপজ্জনক করে তুলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের টাইম বোমা বিস্ফোরণের পথে

সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি গরম অনুভূত হয়। মৌসুমি বৃষ্টি শুরুর আগে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশ বাড়ে। কিন্তু এবার তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের পর্যটনশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলবায়ু নিয়ে কাজ করা ম্যাক্সিমিলানো হেরেরা আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছেন, থাইল্যান্ডে গত ১৫ এপ্রিল সে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা ছিল। একইভাবে প্রতিবেশী দেশ লাওসে মে মাসে পর পর দুই দিন ৪৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর মে মাসের শুরুর দিকে তো ভিয়েতনামে সে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল, যার মাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হেরেরা এই পরিস্থিতিকে ‘অন্তহীন নৃশংসতম দাবদাহ’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর অনুমান, জুন মাসজুড়ে এই দাবদাহ চলবে। ভিয়েতনাম ১ জুন তাদের ইতিহাসে উষ্ণতম (৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) জুনের রেকর্ড ভেঙেছে। বাকি ২৯ দিন কী হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।

বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক জোট ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় যে দাবদাহ চলছে, এমনটি ২০০ বছরে একবার দেখা যায়। তবে মনুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন পরিস্থিতি ‘কার্যত অসম্ভব’।

আর্দ্রতায় ক্ষতি আরও বেশি

উচ্চমাত্রার আর্দ্রতার কারণে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় এই ঝলসানো তাপ আরও বেশি অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতা মানুষের দেহে তাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং সহজে দেহ শীতল হয় না।

গরমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসুস্থতা যেমন হিট স্ট্রোক, অবসাদ ভালো কোনো লক্ষণ নয়। এতে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, হৃদ্‌রোগী, কিডনি রোগী এবং ডায়াবেটিস আছে এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মরিয়াম জাকারিয়া বলেন, আশপাশে আর্দ্রতা যখন খুব বেশি থাকে, তখন শরীর নিজেকে শীতল করতে ঘাম ছাড়তে থাকে। কিন্তু ঘাম বাষ্পীভূত না হওয়ার কারণে শরীরে ভয়াবহ পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এটা তীব্র আকার ধারণ করলে হিট স্ট্রোক এমনকি মৃত্যু হতে পারে। এ কারণে শুষ্ক তাপমাত্রার চেয়ে আর্দ্রতাপূর্ণ তাপ অনেক বেশি ভয়ংকর।

আর্দ্র তাপে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত ‘ফিলস–লাইক’ (যে পরিমাণ অনুভূত) তাপমাত্রার হিসাব করেন। এতে তাপমাত্রা কেমন অনুভূত হচ্ছে, সেটার হিসাব করতে তাঁরা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা—দুটিকেই হিসাবের মধ্যে আনেন। বাতাসের গতিবেগকেও অনেক সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক সময় অনুভূত তাপমাত্রা অনেক বেশি হয়ে থাকে। এটা মানুষের দেহে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, অনুভূত তাপমাত্রা থেকে এর অনেক বেশি সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

কোপারনিকাস জলবায়ু পরিবর্তন সেবার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশ (থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার) এপ্রিলের শুরু এবং মে মাসের শেষের দিকে প্রতিদিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। এই মাত্রাকে বিপৎসীমার ওপরে গণ্য করা হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং এমন গরমে অভ্যস্ত নয়—এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি।

ঢাকার তাপ কমানোর পথ কী?

থাইল্যান্ডে এপ্রিলের ২০ দিন এবং মে মাসের ১০ দিন অনুভূত তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। এই পর্যায়ের তাপমাত্রা বেশ ‘চরম’ এবং এটাকে জীবনের জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর সঙ্গে আর্দ্রতা থাকলে তো কথাই নেই।

এপ্রিল–মে মাসজুড়ে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস ও মালয়েশিয়ায় চরম তাপমাত্রা ছিল। ঘূর্ণিঝড় মোখার আগে মিয়ানমারে ১২ দিন প্রায় কাছাকাছি দাবদাহ ছিল।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের তথ্যমতে, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিল–মে মাসে দাবদাহে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি সড়কে ক্ষতি
হয়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, বিদ্যালয় বন্ধ হয়। অবশ্য এতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি।

সংস্থাটির প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনুভূত তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেশি থাকে।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের লেখকদের একজন মরিয়াম জাকারিয়া বলেন, বায়ুমণ্ডল উষ্ণতর হলে এর আর্দ্রতা ধারণের ক্ষমতা বেড়ে যায়। এতে আর্দ্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আর্দ্র তাপমাত্রা ১০ গুণ বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের হিউম্যান ক্লাইমেট হোরাইজনসের প্রক্ষেপণ বলছে, এভাবে একই গতিতে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে থাইল্যান্ডে দুই দশক পর দাবদাহে প্রতি ১০ লাখে ৩০ জন এবং চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হবে। মিয়ানমারের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ লাখে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩০ এবং ৫২০ এবং কম্বোডিয়ায় যথাক্রমে ৪০ এবং ২৭০ জন হবে।

চরম তাপমাত্রায় গরিব ও অরক্ষিত মানুষের ক্ষতি বেশি

থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই ইউনিভার্সিটির ভূগোলের প্রভাষক ও ডব্লিউডব্লিউএর লেখক ছায়া ভাদ্দনাফুতি বলেন, ‘পেশা, বয়স, স্বাস্থ্যের অবস্থা ও প্রতিবন্ধিতা, স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা, আর্থসামাজিক অবস্থা, এমনকি লিঙ্গ—এসব বিষয় দাবদাহে মানুষকে কমবেশি অরক্ষিত করে তোলে।

সমাজের প্রান্তিক সদস্য, যাঁদের স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া বা শীতল বায়ু পাওয়ার সক্ষমতা নেই এবং যেসব মানুষ খোলা আকাশে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কাজ করেন, তাঁরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন।

২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ অনানুষ্ঠানিক কাজ করেন। কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে এই হার ৮০ শতাংশ।

ঘরে থাকার পরামর্শ

এপ্রিলের শেষ দিকে থাই স্বাস্থ্য বিভাগ দাবদাহ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল। এতে হিট স্ট্রোকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে রাজধানী ব্যাংকক ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে দাবদাহকালে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে সুপোত ক্লংসাপ নুইয়ের মতো অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ঘরে থাকাটা কোনো বিকল্প নয়। তিনি নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাড়ি থেকে ব্যাংককে এসেছেন। তিনি বলেন, এবার খুব গরম, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আলাদা।

নুই বলেন, তিনিসহ নির্মাণশ্রমিকেরা সাধারণত পাশে দেয়াল ও টিনের চাল দেওয়া ঘরে থাকেন। এ ধরনের ঘর গরম থেকে রক্ষা করে না। শীতাতপ ঘরে থাকার মতো তাঁর সামর্থ্য নেই।

২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যাঁরা ঘরে কাজ করেন, তাঁদের চেয়ে যাঁরা বাইরে কাজ করেন, তাঁদের দেহের তাপমাত্রা বেশি। তাঁরা দুই বা তিন গুণ বেশি পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে থাকেন। এতে তাঁর কিডনিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

জীবন–জীবিকায় হুমকি

অতিমাত্রায় দাবদাহ শুধু ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না। বরং এটা পরিবেশ ও মানুষের জীবন–জীবিকার জন্যও হুমকি তৈরি করে। বায়ুমানের ক্ষতি করে, শস্য ধ্বংস করে, দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায় এবং অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন করে। সুতরাং দাবদাহের সময় যেকোনো সরকারের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা অত্যন্ত জরুরি।

লাওসের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় ইয়োতপিং ও ফোন গ্রামের মানুষের জীবন–জীবিকা আবহাওয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। চা–শিল্প ঘিরে এখানকার গ্রামবাসীর জীবিকা আবর্তিত হয়। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁরা চা–পাতা তোলেন। কিন্তু চলতি বছর অত্যধিক গরমের কারণে সকালে তাঁরা কাজ করতে পারেননি। এ সময়ে তাঁদের বিকেলে কাজ করতে হয়েছে। এতে তাঁরা চা–পাতা সংগ্রহের পরিমাণ নিয়ে চিন্তায় আছেন। কারণ, তাঁদের কাজের পরিমাণ কমে গেছে। এতে আয়ও কমে গেছে।

লাও ফার্মার নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা চিন্তানাফোন কেওবিচিথ বলেন, এ বছর খুবই গরম। কৃষকেরা এখন গরমের সঙ্গে সংগ্রাম করছেন।

চা কৃষক বোয়া সেং বলেন, গতবারের চেয়ে এ বছর অনেক বেশি গরম। এতে চা–পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে।

এক হাজার বছরের পুরোনো চা প্রক্রিয়াজাত কারখানার ব্যবস্থাপক ভিং সামাই লবিয়া ইয়াও বলেন, চলতি বছর গরমের কারণে যথেষ্ট পরিমাণ চা–পাতা উৎপাদিত হবে না। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন কম হবে।

বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই গ্রহের উষ্ণতা ও দূষণ কমানো সম্ভব নয়। জলবায়ু সংকট যত বাড়বে, ব্যক্তি, সমাজ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে ততই চড়া মূল্য দিতে হবে।

মে মাস শেষে জুন মাস শুরু হয়ে গেছে। অনেকে এখনো স্বস্তির আশায় দিন গুনছেন। চিন্তানাফোন বলেন, ‘মে মাস ছিল সবচেয়ে ভয়ানক এক মাস। এই মাসে সাধারণত বৃষ্টির মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু এ বছর এখনো বৃষ্টি এল না।’

  • অনুবাদ শাহজাহান সিরাজী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.