সহজ ম্যাচ কঠিন করে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

0
64
মেহেদি মিরাজ।

ভারতকে নাগালে পেয়েও প্রথম ম্যাচে হারতে বসেছিল বাংলাদেশ। মেহেদি মিরাজের দৃঢ়তায় ওই ম্যাচে ১ উইকেটে জেতে টাইগাররা। এবার সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল লিটনের দল। নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাচ ইনজুরিতে পড়া রোহিত শর্মা মাঠে ফিরে ঘুরিয়ে দেন। ৪৯তম ওভারে দুই ক্যাচ ফেলে হারতে বসেছিল টাইগাররা। মাহমুদুল্লাহ ওই ওভারে দেন ২০ রান। শেষ ওভারে ভারতের জিততে দরকার ছিল ২০ রান। শেষ বলে ছয়! মুস্তাফিজ দলকে ৫ রানের জয় এনে দিয়েছেন।

তবে ম্যাচের আসল নায়ক মেহেদি মিরাজ। নিঁখুত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়েছেন তিনি। টি-২০ বিশ্বকাপে ‘মেকশিফট’ ওপেনার ছিলেন মিরাজ। ওই বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং নিয়ে অত কাজও তিনি করেননি। সুযোগ পেলে হাত ঘুরানোর সঙ্গে ব্যাটও যে চালাতে পারেন ভারত সিরিজে দেখিয়ে দিয়েছেন এই স্পিন অলরাউন্ডার। এক ম্যাচ থাকতে সিরিজ জয়ের নায়কও তিনি।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল রাসেল ডমিঙ্গোর দলের ব্যাটিং লাইন আপ। দুই ওপেনার এনামুল হক (১১) ও লিটন দাস (৭) ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান। তিনে নামা নাজমুল শান্ত ২১ রানে আউট হন। রান পাননি সাকিবও (৮)। ওয়াশিংটন সুন্দরের ১৯তম ওভারের শেষ দুই বলে ফেরেন মুশফিকুর (৮)  ও আফিফ (০)। বাংলাদেশ ৬৯ রানে হারায় ৬ উইকেট।

মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে ইনিংসের প্রাণ ফেরান মেহেদি মিরাজ। তারা সপ্তম উইকেটে ১৪৮ রান তোলেন। ওই জুটিতে মাহমুদুল্লাহর অবদান ৯৮ বলে ৭৭ রান। সাতটি চারের শট খেলে ফেরেন তিনি। নাসুম আহমেদকে নিয়ে আরও ৫৪ রান যোগ করেন মিরাজ। তিনি খেলেন ৮৩ বলে ১০০ রানের হার না মানা ইনিংস। আটটি চারের সঙ্গে চারটি ছক্কার হাঁকান। নাসুম ১১ বলে ১৮ রান করেন।

জবাব দিতে নামা ভারতকে বল হাতে চাপে ফেলেন মিরাজ-এবাদতরা। রোহিত শর্মা ক্যাচ নিতে গিয়ে আঙুলের চোটে পড়েন। ওপেনিংয়ে নেমে বিরাট কোহলি ৫ রান তুলে এবাদতের বলে বোল্ড হন। পরেই মিরাজ তুলে নেন শিখর ধাওয়ানকে। চারে নামা ওয়াশিংটন (১১) এবং পাঁচে নামা কেএল রাহুল (১৪) রান পাননি। ৬৫ রানে ভারত হারায় ৪ উইকেট।

সেখান থেকে ১০৮ রানের জুটি দেন তিনে নামা শ্রেয়াস আয়ার ও ছয়ে নামা অক্ষর প্যাটেল। ওই জুটি ভাঙেন মিরাজ। ছয় চার ও তিন ছক্কায় ৮২ রান করা আয়ারকে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপরই আউট হন ৫৬ রান করা অক্ষর। ম্যাচ চলে আসে বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু অবাক করে নয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন রোহিত শর্মা। ম্যাচও ঘুরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ৫১ রানের হার না মানা ইনিংস খেললেও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি।  বাংলাদেশের হয়ে পেসার এবাদত তিনটি এবং মিরাজ ও সাকিব দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ভারতের হয়ে স্পিনার সুন্দর তিনটি এবং পেসার সিরাজ ও উমরান মালিক দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের পরে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সাদা বলের দীর্ঘ ফরম্যাটে ওই সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশের উত্থান। সিরিজটি ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের আগমণের। এবার টি-২০ বিশ্বকাপের পরে ভারতের বিপক্ষে আরেকটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবারের সিরিজে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে প্রাপ্তি মেহেদি মিরাজ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.