সংস্কৃতিজনদের ভালোবাসায় সিক্ত সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা

0
64
জমকালো অনুষ্ঠানে নাচ, গান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন ২৩ নারী ফুটবলার।

সাবিনা-সানজিদা-কৃষ্ণাদের সাফ জয়ের আনন্দে ভেসেছে গোটা দেশ। ইতিহাস গড়া এই জয়ের পর দেশে ফিরে নারী ফুটবলাররা পেয়েছেন ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা। সাফ জয়ের উন্মাদনার রেশ কাটেনি এখনো। নারী ফুটবলারদের এই গৌরবময় অর্জনকে ধারাবাহিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে সংস্কৃতিজনেরা।

সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাবিনা-কৃষ্ণাদের বরণ করে নেয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এ সময় জমকালো অনুষ্ঠানে নাচ, গান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন ২৩ নারী ফুটবলার।

লাল গালিচায় হেঁটে তারা অনুষ্ঠানমঞ্চে উপস্থিত হওয়ামাত্র উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মধ্যে। তাদের উত্তরীয় ও ফুলের মালা পরিয়ে দেন শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের ২১ নারী ও দু’জন ট্রান্সজেন্ডার। পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকার চেক।

সাফ চ্যাম্পিয়ন সাবিনারা শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলার ভাষা শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও জাতীয় চার নেতাসহ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা সকল শহিদের প্রতি। এরপর রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সহশিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল পর্ব। এ আয়োজনে সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে ছিলেন দেশের বিভিন্ন শাখার বরেণ্য নাগরিকরা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানের সঙ্গে দলীয় নাচ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এ সময় নারী ফুটবলারদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ভালোবাসায় সিক্ত করেন সংগীত, আবৃত্তি ও নাট্যশিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীরা পরিবেশ করেন গান, নাচ ও আবৃত্তি। মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির অপূর্ব সম্মিলন ঘটিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের সকল শাখার শিল্পীরা। পরে ফুটবলার-কোচসহ নারী ফুটবল দলের সবার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা। আইএফআইসি ব্যাংক ও বিশিষ্ট সংস্কৃতিজনদের সহযোগিতায় ক্রীড়াবিদ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধির হাতে আর্থিক সম্মাননার চেক তুলে দেওয়া হয়। ফুটবলারদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সাংসদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। এরপর ছিল আলোচনা পর্ব।

মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির অপূর্ব সম্মিলন ঘটিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের সকল শাখার শিল্পীরাসাবিনাদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান এবং ফিফা কাউন্সিল মেম্বার মাহফুজা আক্তার কিরন, বাফুফের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সাধারন সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ এবং সদস্য ও সাফের দলনেতা জাকির হোসেন চৌধুরী।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. আহকাম উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, লাকী ইনাম, সারা যাকের, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, বাচিকশিল্পী ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বরেণ্য সংস্কৃতিজন মফিদুল হক, তিমির নন্দী, শাহীন সামাদ, ঝুনা চৌধুরী, মিনু হক, কামাল পাশা চৌধুরী, কাজী মিজানুর রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার এবং অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ নারী ফুটবল দলের সদস্য ও কর্মকর্তারা।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাবিনাদের হাত ধরে দেশের ফুটবলের ইতিহাসে নতুন সূর্যের উদয় হয়। ১৯ বছরের ট্রফি খরা ঘুচিয়ে নারী ফুটবলাররা বাংলাদেশকে এনে দেয় এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জেতে বাংলার বীর নারীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.