শিক্ষক নেই, তাই অভিভাবক দিয়ে ক্লাস

0
75
শিক্ষক নেই, পাঠদান করছেন অলিকা দাশ নামের একজন অভিভাবক। হবিগঞ্জের পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে গত রোববার

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫০। ১ জানুয়ারি তারা নতুন বই পেয়েছে।

পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের পাঠদান চলে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংযুক্তির মাধ্যমে। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৫ ডিসেম্বর এই সংযুক্তির আদেশ বাতিল করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন শিক্ষক নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে গেছেন। এমন অবস্থায় বছরের শুরুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ঝুঁকিতে পড়ে। এ জন্য হবিগঞ্জ পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট মো. শাহজাহান কবীরের অনুরোধে ৩ জানুয়ারি থেকে পাঁচজন অভিভাবক পাঠদান করছেন।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষণ বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে থাকে পিটিআই। প্রাথমিক স্তরের এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ আছে পাঁচটি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের সংযুক্তি দিয়ে এ কার্যক্রম চালানো হয়। পাশাপাশি যেসব শিক্ষক পিটিআইয়ে ‘ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন কোর্স’ করতে আসেন, তাঁদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই কোর্সের মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও নতুন কোর্স এখনো শুরু হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জ পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান কবীর জেলা শিক্ষা অফিসের সহায়তা চেয়ে চিঠি দেন। একই সঙ্গে পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সহায়তা চান তিনি। তাঁর আহ্বানে অভিভাবকেরা সাড়া দেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ইনস্ট্রাক্টর, কম্পিউটার অপারেটর ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের মধ্য থেকে আরও পাঁচজনকে অতিথি শিক্ষকতার দায়িত্ব দেন শাহজাহান কবীর। এখন এভাবে চলছে ওই বিদ্যালয়ের নতুন বছরের কার্যক্রম।

গত রোববার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন তানজিনা আখতার নামের একজন অভিভাবক। তিনি বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জ লক্ষ্মী কটন মিলস উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

এখন সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগছে। এভাবে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করা হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা পার্ণা বণিক ও অলিকা দাশও পাঠদানের দায়িত্বে আছেন। তাঁরা বলেন, শিশুদের ক্লাস নিতে ভালো লাগছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গতকালও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়টিতে পাঠদান করিয়েছেন।

পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. শাহজাহান কবীর বলেন, শিক্ষকসংকটের বিষয়ে তিনি গতকাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, রোববার নাগাদ তিনজন শিক্ষক যোগদান করতে পারেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.