লাইক ফর লাইক খেলোয়াড়: কী মানে এর?

0
356
মাথায় চোট পাওয়া স্মিথের বদলি নামা লেবুশেনও মাথায় আঘাত পেয়েছেন আজ। আর্চারের বলেই! ছবি: এএফপি
কাল স্মিথের মাথার চোট যে কতটা গুরুতর ছিল সেটা বোঝা গেছে আজ। স্টিভ স্মিথের বদলি হিসেবে আজ মাঠে নেমেছেন মারনাস লেবুশেন। এতেই গড়েছেন ইতিহাস। কারণ, ইতিহাসে লেবুশেনই প্রথম লাইক ফর লাইক বদলি (একই রকম বদলি) খেলোয়াড়। প্রশ্ন হলো লাইক ফর লাইক বদলি খেলোয়াড় ব্যাপারটি কী?

 

জফরা আর্চারের বাউন্সার যে কত বড় ক্ষতি করেছে সেটা কাল বোঝা যায়নি। বোঝা যাওয়ার সুযোগ স্মিথই দেননি। কানের নিচে বল আঘাত হানার পর মাঠ ছেড়েছিলেন। কিন্তু আধ ঘণ্টা পরে দলের প্রয়োজনে আবার মাঠে নেমে ১২ রানও করেছেন। কিন্তু আজ জানানো হয়েছে লর্ডস টেস্ট থেকে নাম কেটে গেছে স্মিথের কনকাশনের ভয় থাকায় পঞ্চম দিনে স্মিথকে আর দেখা যাবে না। আর লাইক ফর লাইক বদলি (একই রকম বদলি) হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন মারনাস লেবুশেন।

মাঠে বদলি খেলোয়াড় নামাটা প্রায় প্রতি ম্যাচেই দেখা যায়। লেবুশেন তবু ইতিহাসে নাম লেখালেন কেন? কারণ, বদলি খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ফিল্ডিং করতে পারেন ওই খেলোয়াড়। কিন্তু কনকাশনের (মাথায় আঘাত) বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড় ব্যাটও করতে পারবেন। এরই মাঝে স্মিথের বদলি হিসেবে নামা লেবুশেন স্মিথের জায়গাতেই অর্থাৎ চারে ব্যাট করতে নেমেছেন। তবে স্মিথ যেভাবে একাই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের শূন্যতা ঢেকে দিয়েছেন তিন ইনিংসে, সেটা করতে পারলেই হয়তো ‘লাইক ফর লাইক সাবস্টিটিউট’নামটির সদ্ব্যবহার হবে। এরই মধ্যে অবশ্য একটি কাজ হয়ে গেছে তাঁর। জফরা আর্চারের বলেই মাথায় আঘাত পেয়ে উইকেটের ওপর পড়ে গিয়েছেন লেবুশেন, স্মিথের মতোই!

এসবই ভালো কথা। কিন্তু প্রশ্ন জাগতেই পারে, একই রকম বদলি খেলোয়াড়—কথাটার মানে কী? কিছুদিন আগেই আইসিসি নতুন নিয়ম করেছে, মাথায় আঘাত পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে তার পরিবর্তে আরেকজন খেলোয়াড় নামার সুযোগ পাবেন। বদলি খেলোয়াড় নামার সুযোগ ক্রিকেটে নতুন নয়। ২০০৬ সালের দিকে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের নিয়ম চালু করা হয়েছিল, যখন ব্যর্থ কোনো ব্যাটসম্যানের বদলে নতুন কোনো বোলার নামানোর সুযোগ পেত দল। বা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লে একজন বোলারের বদলে ব্যাটসম্যানও নামাত অনেকে। আগে ব্যাট করে পড়ে বোলার নামানোর সুযোগ অনেকেই নিয়েছে সে সময়ে।

‘লাইক ফর লাইক’ বদলিতে সে সুযোগ নেই। এ নিয়মে একজন ব্যাটসম্যান যদি আঘাত পান, তবে তাঁর বদলে একজন ব্যাটসম্যানই নামানো সম্ভব। বোলার হলে ঝামেলা আরও বেশি। একজন পেসার হলে পেসার, স্পিনার হলে স্পিনার। টেস্টের পঞ্চম দিন বলে পেসারের বদলে স্পিনার নেওয়ার সুযোগ নেই। এর বাইরের নিয়ম অবশ্য ম্যাচ রেফারিই ঠিক করে দেবেন। কারণ প্রতিটি ঘটনাই আলাদা। যেমন একজন ব্যাটসম্যানের বদলে একজন অলরাউন্ডার নামলে তিনি কী ক্রতে পারবেন সেটা ম্যাচ রেফারিই বলে দিতে পারেন। আইসিসির নিয়মে কোথাও বলা নেই যে তিনি বোলিং করতে পারবেন না। কিন্তু খেলায় সমতা ধরে রাখতে চাইলে একজন অলরাউন্ডারকে বল করতে দেওয়া উচিত নয়। এ কারণেই টেস্ট অভিষেকের সময় লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার, ব্যাটও করতে পারেন—এ পরিচয় থাকার পরও লেবুশেনের হাতে আজ হয়তো বল তুলে দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। কারণ, স্টিভ স্মিথকে এখন আর অলরাউন্ডার হিসেবে ধরা হয় না।

এ বদলির নিয়মে কিছুটা অসুবিধাও আছে। ধরা যাক, কাল স্মিথের বদলে নাথান লায়ন চোট পেলে কী করা হতো সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একই রকম বদলির নিয়মে আরেকজন অফ স্পিনার নামার কথা কাল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডেই আরেকজন অফ স্পিনার নেই! সে ক্ষেত্রে কাকে নামাত অস্ট্রেলিয়া?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে