রাবিতে গেস্টরুমে বসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছাত্রলীগের ৬ জন আহত

0
396
হলের অতিথিকক্ষে বসা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের একপক্ষের মারধরে অপরপক্ষের ছয় কর্মী আহত হয়েছেন।

হলের অতিথিকক্ষে বসা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের একপক্ষের মারধরে অপরপক্ষের ছয় কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে দু’দফা মারধরে তারা আহত হন।

এ সময় এক ছাত্রলীগ নেতার কক্ষের জানালা ভাংচুর করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ও পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- লিমন, সোহেল রানা, জসিম, রশিদ, মারুফ পারভেজ ও ইকরাম হোসেন রিওন। তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সভাপতি প্রার্থী সাকিবুল হাসান বাকীর অনুসারী বলে জানা গেছে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারবখশ হলের গেস্টরুমে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী কামরুল হাসান নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী শুয়ে ছিলেন। এ সময় লিমন তার এক বান্ধবীকে নিয়ে গেস্টরুমে যান। এ সময় তিনি কামরুলকে উঠে জায়গা দিতে বলেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে লিমনকে মারধর করেন কামরুল। পরে লিমন তার সহযোগীদের ফোন করে ডেকে নেন। তারা এসে কামরুলের কক্ষের (হলের ২১৭ নম্বর) জানালা ভাংচুর করে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় কামরুল দরজা বন্ধ করে রুমেই অবস্থান করছিলেন।

পরে দুপুর ১টার দিকে বাকীর কিছু অনুসারী মাদারবখশ হলের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগ নেতা বৃত্ত, আরিফ বিন জহির, আসাদুল্লাহ গালিব ও চঞ্চল কুমার অর্কের নেতৃত্বে তাদের মারধর করা হয়। এতে লিমন ছাড়া অন্য পাঁচজন আহত হন। তাদের থামাতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, গেস্টরুমে বসা নিয়ে হাতাহাতি হয়েছিল। প্রক্টর, হল প্রশাসনের সহযোগিতায় সভাপতি ও আমি বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছি। এ নিয়ে পরে আর কোনো সমস্যা যেন না হয়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক করেছি।

ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকী বলেন, গত বছর ছাত্রলীগের কমিটির সময় আমি সভাপতি প্রার্থী ছিলাম। সভাপতি হতে পারিনি, এরপর থেকে বর্তমান সভাপতি-সম্পাদক আমাকে ও আমার ছেলেদের ক্যাম্পাসে আসতে দেয় না। অনেককে হল থেকে বের করে দিয়েছে তারা। আজ (শুক্রবার) সামান্য বিষয় নিয়ে তারা আমার ছোট ভাইদের মেরে আহত করেছে।’

প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে দুই ছাত্রের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। পরে আমি এসে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা করে দিয়েছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে