রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৬তম দানোত্তম কঠিন চীবরদানের শুভ উদ্বোধন

0
1195
রাজবন বিহারে রাতে চীবর বুনন কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

বিশ্বের বৌদ্ধদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ও শ্রেষ্ঠদান দানোত্তম কঠিন চীবরদান।বাংলাদেশের বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠ তীর্থভূমি রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩:০০ঘটিকায় ৪৬তম দানোত্তম কঠিন চীবরদানের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন চাকমা চার্কেল চীফ ও রাজবন বিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের দেহ ধাতু

এ পূণ্যানুষ্ঠানে রাজবন বিহারে দেশ বিদেশের বহু পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে । প্রতি বছর জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে লাখো জনতার ঢল নামে এ পূণ্যানুষ্ঠান দেখার জন্য।

সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে

সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের সুযোগ্য শিষ্যবর্গ ও রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তেসহ চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বেইনঘরে এসে ফিতা কেটে বেইনঘর উদ্বোধন করেন। প্রথমে প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তে ও ভিক্ষুসংঘ বেইনঘরের দক্ষিণ দিকে ফিতা কেটে প্রবেশ করেন।পরবর্তীতে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় পঞ্চশীল প্রদান পূর্বক উপস্থিত বেইন বুননের পূণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি সংক্ষিপ্ত ধর্মদেশনা প্রদান করেন।

রাজবন বিহারের বিহার অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ভান্তে বেইন ঘর ফিতা কেটে উদ্বোধন করছেন।

ভিক্ষুসংঘ বেইনঘর প্রদক্ষিণ শেষে প্রত্যাবর্তন করলে চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ফিতা কেটে বেইন উদ্বোধন করেন।পরে চরকা ও চরকিতে হাত চালিয়ে চরকা চরকিরও উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য প্রতিবারে চাকমা রাণী ইয়েন ইয়েন এ চরকা চরকির উদ্বোধন করে থাকেন।

উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ পঞ্চশীল প্রদান করছেন।

মহাউপাসিকা বিশাখা প্রবর্তিত দানোত্তম কঠিন চীবরদান বুদ্ধের সময়কালে এক অনন্য দানানুষ্ঠান। বুদ্ধের শিষ্যবর্গ সে সময় বর্ষাকালে ছেড়াঁ কাপড় নিয়ে পিন্ডচরন করতেন।অর্থাৎ ভিক্ষাপাত্র নিয়ে খাদ্যের অন্বেষণে বনজঙ্গল হতে পাড়া গ্রামে চলে আসতেন। সেই দুর্দশা দেখে মহা উপসিকা বুদ্ধের কাছে পরিধেয় বস্ত্র দানের প্রার্থনা ও দান করেছিলেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা হতে সুতা, সুতায় রং করে কাপড় বুনে সেলাই করে ৩০জন ভিক্ষুকে দান করা সহজ কাজ ছিল না। তাই বুদ্ধ এ দানকে কঠিন চীবর দান নামে অভিহিত করেন।সেই সাথে দানের মধ্যে শ্রেষ্ঠদান হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং এ দানের ফলকে অনন্তগুণ আখ্যা দেন।

ফিতা কেটে বেইনঘর উদ্বোধন করছেন ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

পার্বত্য অঞ্চলে সর্ব প্রথম সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে বিশাখা প্রবর্তিত এ কঠিন চীবরদান ১৯৭৩ সালে তিনটিলা লংগুদু বনবিহারে চালু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ৪৬তম কঠিন চীবর দান উদযাপিত হচ্ছে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে।

ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় চরকা ও চরকি উদ্বোধন করেন ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসারে বনভান্তের অবদান অপরিসীম। পার্বত্য অঞ্চলে এ মহাপুরুষের আর্বিভাবের ফলে অন্ধাকারাচ্ছন্ন ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত মানব সমাজকে আলোর শিখায় প্রজ্জলিত ও উদ্দীপ্ত করেন তিনি।মহান এ আধ্যাত্মিক আর্য্য সাধক দীর্ঘকাল বনে বনে সাধনায়রত ছিলেন বলে সবাইয়ের কাছে বনভান্তে নামে এলাকায় সুপরিচিত ও বিশ্বের মাঝে সুখ্যাত হন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ মহিমা পার্বত্য রাঙ্গামাটি আজ বনভান্তের কারণে মহান তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।বুদ্ধের বাণী মৈত্রী করুণা মদিতা উপেক্ষা এর  উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখেছেন বনভান্তে, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের মাঝে শান্তির অগ্রদুত হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারের উপাসক উপাসিকা পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসাসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।উদ্বোধনী শেষে রাজা দেবাশীষ রায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান চলমান রয়েছে-যা আগামীকাল বিকেলবেলায় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে দান করার পর পরিসমাপ্তি ঘটবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে