যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের

0
69
আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক শ লোক নিহত ও কয়েক শ লোক আহত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

বিতর্কিত নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চলে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে চলা যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়া যৌথভাবে ওই অঞ্চলে সংঘর্ষের নিন্দা জানিয়েছে। গত রোববার থেকে বিতর্কিত অঞ্চলটিতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চলে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের ঘটনা। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চল নাগোরনো কারাবাখ সোভিয়েত আমলে আজারবাইজানের অংশ ছিল।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এক যুদ্ধে আর্মেনিয়ার সহায়তায় জাতিগত আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। নাগোরনো কারাবাখ নিয়ে অনেক বছর ধরে বৈরী সম্পর্ক আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে। সেই উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। দুই দেশের সীমান্তে গত রোববার ইয়েরেভান ও আজেরি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির পর পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও টানা পাঁচ দিন ধরে সেখানে যুদ্ধ চলছে।

আজ শুক্রবার সকালে আর্মেনিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে আজারবাইজানের বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানী ইয়েরেভানের কাছাকাছি চলে এসেছিল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শত্রুতা শিগগিরই বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত দুই দেশের নেতাদের আলোচনায় বসারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

আর্মেনিয়ার সঙ্গে সামরিক জোট রয়েছে রাশিয়ার। দেশটিতে তাদের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। পাশাপাশি আজারবাইজান সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে আজারবাইজানকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুদ্ধবিরতির চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আজারবাইজানের ভূখণ্ড থেকে আর্মেনিয়া সরে গেলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে সমস্যাটি তিন দশকের বেশি সময় ধরে জিইয়ে রাখা হয়েছে। তারা যদি যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চালাতে থাকে, তবে তা অগ্রহণযোগ্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে সিরিয়ার জিহাদিদের পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়।

বিবিসির প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, টানা পঞ্চম দিনের মতো ওই অঞ্চলে লড়াই চলছে। গতকাল দুই পক্ষই ভারী গোলাবর্ষণ জারি রেখেছে।

সবশেষ সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার জন্য দুই দেশ একে অপরকে দায়ী করেছে। আর্মেনিয়া বলেছে, প্রথমে আজেরি বাহিনী নাগোরনো কারাবাখ অঞ্চলে তাদের বাহিনী লক্ষ্য করে গোলা ছুড়েছে। আর আজারবাইজানের অভিযোগ, আর্মেনিয়ার বাহিনীই প্রথম আজেরি সেনা ও দেশটির বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষে প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, আজেরি সেনাদের হামলায় অজ্ঞাতসংখ্যক বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মূলত জাতিগত আর্মেনীয় অঞ্চল নাগোরনো কারাবাখ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই একে নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। পরে ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হলেও নাগোরনো কারাবাখ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অব্যাহতভাবে হামলার অভিযোগ করে আসছে দুই দেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে