ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের বৈধতা নিয়ে আবেদন

0
466
ফাইল ছবি

রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফওজিয়া রেজওয়ানকে নিয়োগ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।

আদালতে আবেদনটি দায়ের করেন ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ। আবেদনের ওপর সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিধান চ্যালেঞ্জ করে ইতিপূর্বে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। ওই রিটের ধারাবাহিকতায় সোমবার সম্পূরক আবেদনটি করা হয়।

ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, ১৯৭৯ সালের রেগুলেশন ২(এ)(ই), ৩(১) (২) অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির এবং ২০০৯ সালের রেগুলেশন ৪১ (২)(খ)(৪) অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির। কিন্তু সরকার অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে মাউশির একজন কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়।

আবেদনে ফওজিয়াকে নিয়োগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় প্রজ্ঞাপন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া তার কার্যক্রমের ওপরে স্থিতাবস্থা জারিরও আর্জি জানানো হয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শনিবার অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় সরকার। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বরাবরই এ বিদ্যাপীঠে পরিচালনা পর্ষদ অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে এসেছে। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার থেকে প্রেষণে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফওজিয়া। তিনি রাজধানীর সবুজবাগ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুলে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি বেগমের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ  থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব (কলেজ-২) ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি নিজ বেতনক্রম অনুযায়ী বেতনভাতা গ্রহণ করবেন এবং পদসংশ্নিষ্ট ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিনা ভাড়ায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করলে তিনি কোনো বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন না। সরকারি বাসায় বাস করলে বাড়ি ভাড়াসহ যাবতীয় সরকারি পাওনা নিজ দায়িত্বে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সংশ্নিষ্ট খাতে জমা দেবেন।

তিনি স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বাধ্যতামূলক ভবিষ্য তহবিল, গোষ্ঠী বীমা ও অন্যান্য তহবিলে চাঁদা দেবেন। প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্নিষ্ট বিধি অনুযায়ী তার লিভ সেলারি ও পেনশনের চাঁদা দেবেন।

সরকারের প্রচলিত বিধিবিধান ও আদেশ অনুসারে তার চাকরি নিয়ন্ত্রণ হবে বলেও আদেশে বলা হয়েছে।

খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও ভিকারুননিসায় দীর্ঘদিন কোনো পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ নেই। গত এপ্রিলে অধ্যক্ষ নিয়োগের চেষ্টা করেছিল তৎকালীন পরিচালনা কমিটি। তবে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করে গত ৪ জুলাই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার বেশি ঘুষ লেনদেন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের অভিযোগ উঠেছিল অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। সে সময় মন্ত্রণালয়ের আদেশে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে দেশের অন্য কোনো খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়োগ কমিটিতে না রাখার জন্যও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দ্রুত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য ও বিতর্কিতমুক্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য স্কুলটির গভর্নিংবডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ ছিল, এই পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় সবাই ফেল করেন। এ পরীক্ষায় ৩০-এর মধ্যে মাত্র সাড়ে তিন পাওয়া রুমানা শাহীন শেফা নামের এক প্রার্থীর নিয়োগ চূড়ান্ত করে তৎকালীন গভর্নিংবডি। সাধারণ অভিভাবকরা এ নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরই তদন্ত করে এ ব্যবস্থা নেয় মন্ত্রণালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.