বিএনপির মঞ্চ ছোট করে দিল পুলিশ

0
240
সিলেট নগরের রেজিস্টারি মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে আজ। গতকাল দুপুরে সেখানে পুলিশ গিয়ে মঞ্চ কেটে ছোট করে দেয়।

সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে চার জেলার প্রতিনিধিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে থাকবেন। এ জন্য ৫০ বাই ২০ ফুট আয়তনের বড় মঞ্চ বানানো হয়। মঞ্চ নির্মাণ প্রায় শেষ হলে পুলিশ হাজির হয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে থাকা শ্রমিকেরা মঞ্চ ছোট করে ২০ বাই ১০ ফুট করে দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় সিলেট নগরের রেজিস্টারি মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ মঞ্চ তৈরির সময় এ ঘটনা ঘটে। উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কোনো প্রতিবাদ জানাননি। নেতা-কর্মীরা বলেন, এ রকম ‘পুলিশি হস্তক্ষেপের’ পরও তাঁরা আজ সমাবেশ করবেন। আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ হওয়ার কথা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘আমরা যে মঞ্চ বানিয়েছিলাম, সেটি ছোট করে দিয়েছেন পুলিশের উপস্থিতিতে একদল শ্রমিক। সেটি আগের মঞ্চ থেকে প্রায় অর্ধেক ছোট। তবে এ বিষয়ে সেখানে থাকা নেতা-কর্মীরা পুলিশকে কিছু বলেননি।’

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করা হচ্ছে। কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশে কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় এবং সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্বশীল নেতারা থাকবেন। বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে সপ্তাহ ধরে চলছে প্রচারণা। চার জেলা ছাড়াও সিলেটে মহানগর ও উপজেলা সদরগুলোতে চলছিল প্রচারণা।

গতকাল সকালে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করার সময় কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিলেট নগরীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে। এমনকি পরিবহনমালিকদেরও সমাবেশস্থলে না যেতে বলা হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেও সমাবেশ করা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও দেশব্যাপী সরকারের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এই সমাবেশে লাখো জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করবে। সেই ভয়েই সরকার সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বড় মঞ্চ ছোট করার বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. জেদান আল মুসা বিশেষ শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার সুজ্ঞান চাকমা ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। মঞ্চ ছোট করার সময় সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মিঞা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে গত রোববার রাত থেকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, বিভাগীয় সমাবেশের প্রচারণা চালাতে গিয়ে পুলিশি ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। রোববার রাত পর্যন্ত ২৮ নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে পুলিশি ধরপাকড়ের নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রেজিস্টারি মাঠের বিভাগীয় সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় করা শুরু হয়েছে। বিভাগীয় সমাবেশের প্রচারপত্র বিলি করার সময় জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মাসুক আহমদ, ছাত্রদলের রাশেদ আহমদ, জাকির আহমদ, তারেক আহমদ, গোলাপগঞ্জ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নোমান উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান প্রমুখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ধরপাকড়কে ‘গণগ্রেপ্তার’ উল্লেখ করে জেলার সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেছেন, এসব বিভাগীয় সমাবেশ বানচাল করার ষড়যন্ত্র। এই গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, যাতে সমাবেশে লোকসমাগম বন্ধ করা যায়। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

সমাবেশ সামনে রেখে জেলাজুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম, ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিসুর রহমান খান বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এটি পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে