বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪ টাকা করেও ত্রাণ পেয়েছে: টিআইবি

0
175
টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, চলতি বছরের বন্যায় দেশের ২৮ উপজেলার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ১৯৮৮ সালের ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে এর বিপরীতে যে সরকারি সহায়তা মিলেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। এই ত্রাণ বিতরণেও হয়েছে নানামুখী অনিয়ম। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৪ টাকা করেও ত্রাণ পেয়েছে।

টিআইবির বন্যা-পরবর্তী এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ রোববার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বন্যার ত্রাণ বিতরণে তালিকা করা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। এতে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের ব্যয় মেটানো হয়েছে ত্রাণের টাকা থেকে। ত্রাণ পরিবহনের বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে তা বিক্রি করেছেন চেয়ারম্যানেরা। সবকিছুর পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি সর্বনিম্ন ত্রাণ পেয়েছে চার টাকা করে। আর সর্বোচ্চ ত্রাণ যেখানে দেওয়া হয়েছে, সেখানে পেয়েছে ৭৬ টাকা পরিবার প্রতি। এ ছাড়া বন্যা পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরপ্রতি গড়ে ২০ টাকা থেকে ৭৭২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যা খুবই সামান্য।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বন্যায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশিত ভূমিকা ছিল না। স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ কম, বাজেট ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া প্রশাসনের ভূমিকাতে ঘাটতি ছিল। ত্রাণ বিতরণে চালের পরিমাণ কম দেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে দুবার দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীরা বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন তাদের কাজের অংশ হিসেবেই। তবে কোথাও কোথাও মন্ত্রীর পরিদর্শন ব্যয় মেটানো হয়েছে, ত্রাণের বরাদ্দ থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের বন্যায় ২৮ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। পানিবন্দী ছিল ৪০ লাখ মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ শতাংশ খানার ফসলি জমি বালি পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জমিতে বালির কারণে আগামী ২ থেকে ৩ বছর ভালো ফসল না হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে গবেষণায়।

টিআইবি বলছে, ১৯৮৮ সালের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম পানি প্রবাহিত হলেও এবারের বন্যায় ক্ষতির ব্যাপকতা বেশি হওয়ার কারণ—পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়া ও পানি নদীর তীর ছাপিয়ে যাওয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে