বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান

0
216
শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায়  গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল ১১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তারা গত ২১ সেপ্টেম্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্ত কমিটি হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে তারা এ ঘটনার কোনো প্রমাণ বা আলামত পাননি। এমনকি আহত শিক্ষার্থীরা কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পারেননি। কোনো স্বাক্ষী নেই বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কমিটির সদস্যরা একটি মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে। এ কারণে এ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পতন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্বরে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কল্যাণ মিত্র অভিযোগ করেন, ২১ সেপ্টেম্বরে ভিসির লালিত পেটোয়া বাহিনী আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সবাই আমাদের দেখতে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি।

তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রায় সবাই ভিসির বিশ্বস্ত লোক এবং তারা যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা সন্তোষজনক নয়। সবকিছু বিবেচনা করে হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমরা প্রত্যখ্যান করছি।

হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, আমরা তদন্তে তেমন কোনো সাক্ষী-প্রমাণ বা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারিনি। ফলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি হামলার বিষয়ে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করার জন্য।

মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশক্রমে মামলা করতে গেলে সদর থানা পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। তাই এ ঘটনায় আর মামলার দরকার নেই।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়তা দে বাদী হয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর  ভিসিপন্থী  অজ্ঞাত ১শ’ জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাত ৫০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আসামি করে মামলা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে