ফল বিলম্বে দায়ী ৩১৮ পরীক্ষক

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা

0
61
বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা

পিএসসির তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, কোনো কোনো পরীক্ষক কিছু প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বরই দেননি। নম্বর যোগ করতেও ভুল করেছেন কেউ কেউ।

  • ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর।
  • এই বিসিএসে বিভিন্ন পদে ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা।

কমিটি সম্প্রতি যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতে ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার জন্য পরীক্ষকদের দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘ভয়াবহ দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘একজন পরীক্ষককে আমরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রেখেছি। এ জন্য তাঁদের উপযুক্ত সম্মানীও দেওয়া হচ্ছে। অথচ এমন অবহেলার সঙ্গে খাতা দেখেছেন, যা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। ফল দিতে দেরি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ পরীক্ষকদের গুরুতর অবহেলা।’

লিখিত পরীক্ষার খাতা যেসব পরীক্ষককে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকে ঠিক সময়ের মধ্যে খাতা দেখা শেষ করতে পারেননি উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছয় মাসে ১০০ খাতার মধ্যে মাত্র ১৫টি দেখেছিলেন। কয়েক দফা সময় নিয়ে যখন খাতা জমা দিয়েছেন, তাতেও অনেক ত্রুটি থেকে যায়। এসব ত্রুটিপূর্ণ খাতা যাচাই করে কমিটি দেখেছে, ৩১৮ জন পরীক্ষক দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেউ কেউ পরীক্ষার্থীর কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বরই দেননি। অনেকে খাতার শেষে থাকা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। কোনো কোনো খাতায় পরীক্ষক নম্বরের যোগফলে ভুল করেছেন। অনেকে আবার এমনভাবে নম্বর দিয়েছেন, যা পুনর্মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠাতে হয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ খাতার ব্যাপারে পিএসসির করণীয় জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘কোনো খাতায় ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে ডেকে এনে সংশোধন করিয়ে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়ার নিয়ম। এখন একে একে ৩১৮ জন পরীক্ষককে ডাকতে হচ্ছে।’

এরই মধ্যে কয়েকজন এসে ভুল সংশোধন করেছেন উল্লেখ করে এই সদস্য বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা ২০–২৫ জন পরীক্ষককে পিএসসিতে ডেকে এনে ভুল সংশোধন করছি। অনেক পরীক্ষক ঢাকার বাইরে থাকেন। এ ছাড়া অনেকে ফোন ধরেন না। এভাবে ৩১৮ জনকে পিএসসিতে নিয়ে আসা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই পরীক্ষকদের মধ্যে যাঁরা দায়িত্বে ‘চরম অবহেলা’ করেছেন, তাঁদের ব্যাপারে পিএসসি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাঁদের আর খাতা দেখতে দেওয়া হবে না। কাউকে কাউকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতে তাঁদের খাতা দিলে যদি একই ভুল আবার করেন, তাহলে তাঁরাও বাদ পড়বেন। এভাবে পিএসসি যে শুধু দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তা নয়, যাঁরা ভালোভাবে খাতা দেখছেন এবং সময়মতো জমা দিচ্ছেন, তাঁদের তালিকাও করছে। তাঁদের আরও বেশি খাতা দেওয়া যায় কি না, সেটি ভাবছে।

সার্বিক বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন গতকাল রোববার বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা কারও নাম উল্লেখ করছি না। কিন্তু এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আমি পরীক্ষকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের আরেকটু ধৈর্য ধরতে বলছি।’

মোছাব্বের হোসেন

ঢাকা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.