দিল্লির শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচিত ইরফান, পাল্টা জবাব

0
219
দিল্লির শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচনার শিকার ইরফান পাঠান। ফাইল ছবি

নতুন নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে উত্তাল গোটা ভারত। বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লিতেও। গত রোববার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। এর প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি। প্রতিবাদ জানিয়ে একটি টুইট করেছিলেন সাবেক ভারতীয় পেসার ইরফান পাঠান। সেই টুইটের জন্য সমালোচনা শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবে ইরফান একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিজের দেশে বসে মতামত ব্যক্ত করতে কারওর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই তাঁর।

ইরফানের টুইটটি ছিল এ রকম—‘রাজনৈতিক দোষারোপের খেলা অনন্তকাল ধরে চলতেই থাকবে। আমি এবং গোটা দেশ জামিয়া মিলিয়ার শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তিত।’ স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় এই টুইটের পর অনেকেই ইরফানের সমালোচনা শুরু করে নানা রকম মন্তব্য করা শুরু করে। সমালোচনার পর নিজের অবস্থান তো পাল্টান-ই নি, বরং আরও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ইরফান বলেছেন, ‘একটি ব্যক্তিগত গল্প বলি। ২০০৪ সালে পাকিস্তানে একটি প্রীতি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়েছিলাম। আমি, রাহুল দ্রাবিড়, লক্ষ্মীপতি বালাজি ও পার্থিব প্যাটেল লাহোরে একটি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে এক শিক্ষার্থী আমাকে প্রশ্ন করে, তুমি তো মুসলিম, তাহলে ভারতের হয়ে খেলো কেন? আমি জবাবে বলেছিলাম, ভারত আমার দেশ। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আমার পূর্বসূরি সবাই ভারতীয়। আমার উত্তর শুনে উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়েছিল।’

এরপরই সমালোচকদের উদ্দেশ্যে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরফান, ‘আমি যদি পাকিস্তানে গিয়ে গর্ব করে এই কথা বলতে পারি, তাহলে নিজের দেশে বসে মনের কথা বলতে আমার কারওর অনুমতির দরকার নেই। কিছু লোকের বোঝা উচিত, আমি আমার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি। ভারতের জার্সি গায়ে যখন বল হাতে দৌড়াতাম, তখন আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে ভাবতাম না। আমি সবার আগে একজন ভারতীয়।’

এই টুইটটি দিয়েই দিল্লির শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সাবেক ভারতীয় পেসার। ছবি: টুইটার

স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়, এমনটাও বলেছেন ভারতের হয়ে ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওয়ানডে ও ২৪টি টি-টোয়েন্টি খেলা ইরফান, ‘আমি আমার মতামত তুলে ধরেছি, এতে অন্যায়ের কী আছে? আমি কি এই সমাজের জন্য কিছুই করিনি? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে সবকিছুতেই প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়, এবং আমি জানি, এদের বেশির ভাগই ভুয়া অ্যাকাউন্ট।’

একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা সবার অধিকার বলেও মন্তব্য করেছেন ইরফান, ‘যখন কোনো বিষয়ে উভয় পক্ষেরই শক্তিশালী যুক্তি থাকে, সেসব বিষয়ে সাধারণত আমি টুইট করি না। চলমান এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। এই শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ।’

দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। শুধু দিল্লি নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজ্যেও জোরালোভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে