দামি ডলারে এবার খরচ বাড়ছে কর্ণফুলী টানেলের

0
43
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিতব্য টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে প্রথম টিউবের খননের কাজ শেষ। এখন চলছে যানবাহন চলাচলের রাস্তা তৈরির কাজ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার উত্থাপিত হওয়ার কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন এই প্রকল্পে খরচ হবে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি শেষ করার জন্য এর আগে সময় দেওয়া হয়েছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি এখন প্রায় শেষের দিকে। শিগগিরই কর্ণফুলী টানেল যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। গত নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিল সেতু কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েক মাসে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা হয়েছে। সে কারণে এই প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আসবাব কেনা, শুল্ক-কর বৃদ্ধির কারণেও খরচ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।

২০১৫ সালে প্রকল্পটি যখন পাস করা হয়, তখন এই প্রকল্পের খরচ ছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। তখন এর মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত। পরে যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম দফা সংশোধন করে খরচ ধরা হয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। মেয়াদ বেড়ে যায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এখন আবার খরচ বাড়ানো হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থ দিচ্ছে।

ইতিমধ্যে ডলার-সংকটে পড়েছে দেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প। ডলারের অভাবে বহু প্রকল্পের বিদেশি ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে না। পিছিয়ে যাচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন। এই তালিকায় পদ্মা সেতু প্রকল্প, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো প্রকল্পও আছে। অন্যদিকে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বহু প্রকল্পের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। তাই একাধিক প্রকল্প সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এটিসহ আগামীকালের একনেক সভায় সব মিলিয়ে ১১টি প্রকল্প উত্থাপিত হবে। এর মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমাই নদে বাঁধ নির্মাণ, বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাসকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (সওজ অংশ), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী পর্যন্ত উড়ালসড়ক নির্মাণ, বাংলাদেশের ২৪টি শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন প্রকল্প ও ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট ফেজ-২ (খুলনা) প্রকল্প।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.