তাইওয়ানে উত্তেজনা বাড়ল

0
41
তাইওয়ান

দ্বীপ অঞ্চল তাইওয়ান ঘিরে আবারও সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। এক মাসের মধ্যে এটি ওই অঞ্চলে তাদের দ্বিতীয় বড় ধরনের মহড়া। গতকাল সোমবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় চীনের নতুন মহড়ায় অংশ নিয়েছে অন্তত ৫৭টি যুদ্ধবিমান ও চারটি রণতরী। চলমান পরিস্থিতির মধ্যে জার্মানির একটি উচ্চ পর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল চার দিনের সফরে তাইওয়ানে গেছে। এ সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। সব মিলিয়ে নতুন মোড়ে পৌঁছেছে চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটারের কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানকে ঘিরে সাগর ও আকাশে রোববার তারা ‘লড়াইয়ের সক্ষমতা যাচাই করতে’ যৌথ মহড়া চালিয়েছে। বহিঃশক্তির উস্কানি ও স্বাধীনতা দাবি করা তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মোকাবিলাও এ মহড়ার উদ্দেশ্য। আলজাজিরা জানায়, তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এ মহড়ার নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে চীন ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ তুলছে বলে তারা দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তাইওয়ানের অবস্থান একবারেই স্পষ্ট। এটি কোনো সংঘাতে উস্কানি দেয় না অথবা কোনো লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে না। এটা দৃঢ়ভাবে নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে রক্ষার চেষ্টা করে।

তাইওয়ান বলছে, নতুন মহড়ায় চীনের অন্তত ২৮টি যুদ্ধবিমান তাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া অনেকগুলো বিমান তাইওয়ান প্রণালির মাঝামাঝি সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে। আনুষ্ঠানিক না হলেও দুই পক্ষই রেখাটি মেনে চলে। সার্বভৌম দ্বীপ অঞ্চলটির দাবি, তাদের আকাশে (দক্ষিণাঞ্চল) চীনের অন্তত দুটি পারমাণবিক বোমা ব্যবহারে সক্ষম বিমান প্রবেশ করেছে।

গত মাসের শেষ দিকে চীন একই ধরনের একটি মহড়া চালায়। ওই মহড়ার পর তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে মার্কিন কংগ্রেস একটি বিল পাস করে। তখন তাইওয়ানের আকাশে চীনের ৪৩টি যুদ্ধবিমান প্রবেশ করেছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

গত বছরের আগস্টে আকস্মিক সফরে তাইওয়ানে যান বিদায় নেওয়া হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তার এ সফর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাইওয়ান সরকার বলে আসছে, তাদের নাগরিকরাই শুধু দ্বীপ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

মহড়াকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তাইওয়ান সফর করছে জার্মানির একটি উচ্চ পর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল। এএফপি জানায়, পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান মারি অ্যাগনাস স্ট্রাক-জিমারম্যানের নেতৃত্বে তাইওয়ানের ‘গণতন্ত্রের প্রতি সংহতি’ জানাতে তাঁরা এ সফর করছেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জার্মানির ক্ষমতাসীন জোটের ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এফডিপি) নির্বাচিত প্রতিনিধি। তাঁরা তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রতিনিধি দলে থাকা আইনপ্রণেতা জোহানেস ভোজেল বলেন, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জটিল’। চলতি বছরের শেষ দিকে দ্বীপটিতে সফর করতে পারেন জার্মানির এক মন্ত্রী, যা হবে ২৬ বছরে কোনো জার্মান মন্ত্রীর প্রথম সফর। ওই সফরের আগে প্রতিনিধিরা তাইওয়ানের ‘হুমকি পরিস্থিতি’ও খতিয়ে দেখছেন।

জার্মান প্রতিনিধি দলের এ সফরের কঠোর সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিং এটাকে শুধু ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেই ক্ষান্ত হয়নি, জার্মানির অতীত ইতিহাস টেনেও খোঁচা দিয়েছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়্যাং ওয়েনবিন বলেন, এ বিষয়ে তিনি জার্মানিকে ‘গভীর ও কষ্টদায়ক’ ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে চান। উক্তিটিকে তিনি ১৯৪৫ সালে শেষ হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই যুদ্ধে মিত্র শক্তি- ফ্রান্স, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমানে রাশিয়া) ও চীনের কাছে হেরে যায় অক্ষশক্তি জার্মানি, ইতালি ও জাপান। চীনের মুখপাত্র ওয়্যাং ওয়েনবিন ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য জার্মানির প্রতি আহ্বান জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.