ডলার সংকটে জ্বালানি তেলের বিল দিতে বিলম্ব

0
156
ডলার, ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানিনিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিপিসি। দেশে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের মূল রাষ্ট্রীয় সংস্থা এটি। ১৪ মার্চ বিপিসির চেয়ারম্যানের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ডলার–স্বল্পতার কারণে জ্বালানি তেলের আমদানি মূল্য পরিশোধ বিলম্ব হচ্ছে। দেশের ভেতরে পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য জ্বালানি তেল। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।

বিপিসি সূত্র বলছে, গতকাল ২৭ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বিল বকেয়া পড়েছে ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাবে সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ভিটল। ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার পাবে আরব আমিরাতের এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ইনক)। ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াম পুসাকু (বিএসপি) পাবে ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অনেক চাপাচাপির পর ভারতীয় এ কোম্পানির ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের একটি বিল সম্প্রতি পরিশোধ করা হয়েছে। এসব বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে নিয়মিত পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, পেট্রল, অকটেন) কিনে থাকে বিপিসি।

ডলারের অভাবে বিল দিতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী বিদেশি কোম্পানি।

বিপিসি চিঠিতে জানায়, গত বছরের জুন থেকে মূল্য পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে তেল সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করে ইনক। দরপত্রে অংশগ্রহণও কমছে। প্রতি ছয় মাসের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বিপিসি। দেখা গেছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তেল সরবরাহ করতে দরপত্রে অংশ নেয় সাতটি কোম্পানি। এরপর জুলাই থেকে ডিসেম্বরে ছয়টি ও গত জানুয়ারি থেকে আগামী জুনের জন্য অংশ নিয়েছে পাঁচটি কোম্পানি। অনেকে এখন বিভিন্ন শর্ত আরোপ করছে। তাই জরুরিভিত্তিক বকেয়া শোধ করা দরকার। অন্যথায় সময়মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ করা কষ্টকর হবে বলে জানিয়েছে ভিটল।

চাহিদামতো ডলার পাওয়া যাচ্ছে না

জ্বালানি বিভাগকে পাঠানো চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ ও সরকারি চারটি ব্যাংকে। এতে বলা হয়, চাহিদা অনুসারে ডলার সরবরাহ করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি মূল্য পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত তারিখ থেকে কোনো কোনো বিল পরিশোধে ১৮ থেকে ২০ দিন দেরি হচ্ছে। চুক্তি অনুসারে জাহাজে জ্বালানি তেল তোলার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহকারী কোম্পানিকে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। না হলে প্রতিদিনের জন্য ৫ দশমিক ২২ শতাংশ হারে বিলম্ব মাশুল দিতে হবে বিপিসির।

বিপিসি চিঠিতে জানায়, কোনো বেসরকারি ব্যাংক এক বছর ধরে ঋণপত্র (এলসি) খুলছে না। মাসে ১৭ থেকে ১৮টি ঋণপত্র খোলার দরকার হয় বিপিসির। এর মধ্যে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক গড়ে চার থেকে পাঁচটি করে ঋণপত্র খুলছে। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক একটির বেশি ঋণপত্র খুলতে রাজি হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা ও বিল পরিশোধে ডলারের একটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি খাতে ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কৃষিসেচের মৌসুম। এ সময় দেশে বোরো আবাদ হয়। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গরমও বেশি। সব মিলিয়ে তখন বিদ্যুতের চাহিদা থাকবে সর্বোচ্চ। তাই উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।

মহিউদ্দিন

ঢাকা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.