চট্টগ্রামে নির্দিষ্ট এলাকায় করোনা শনাক্ত রোগী বেশি

0
90
করোনাভাইরাস

চট্টগ্রামে শুক্রবার রাত পর্যন্ত করোনাভারাসে সংক্রমিত ২০৭ জন রোগী শনাক্ত হন। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলারই ২৭ জন। বাকি রোগীদের বেশির ভাগের বসবাস চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া ছাড়াও পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহর বৃত্ত এলাকার মধ্যে।

নারায়ণগঞ্জফেরত তিন ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটে সাতকানিয়া উপজেলায়। আর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর, সরাইপাড়া এবং পাহাড়তলী কাছাকাছি এলাকা। এই বৃত্ত এলাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশমুখের সঙ্গে সংযুক্ত এবং সেখানে হাজারো মানুষের বিচরণ রয়েছে। প্রবেশপথের আগন্তুক কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সেখানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দামপাড়ায় প্রথমে একজন পুলিশ সংক্রমিত হন। ওই পুলিশ ব্যারাকে থাকতেন। তাঁর মাধ্যমে ব্যারাকের অন্য পুলিশ সদস্যরা সংক্রমিত হন। কেবল দামপাড়ায় ২২ জন শনাক্ত হন, যাদের বেশির ভাগ পুলিশ সদস্য।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সাতকানিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশপথের সংযোগ এলাকা পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহর এলাকাকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছি।

ফজলে রাব্বি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এককভাবে চট্টগ্রামের মধ্যে সাতকানিয়ায় সর্বোচ্চ ২৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। নারায়ণগঞ্জফেরত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁরা সবাই আক্রান্ত হন। আর দামপাড়ায় ব্যারাকে অনেক পুলিশ থাকতেন। একজনের মাধ্যমে সেখানে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগস্থল। কোনো আগন্তুক ব্যক্তির মাধ্যমে সেখানকার লোকজন সংক্রমিত হতে পারে বলে আমাদের ধারণা।

গত ২৫ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্ত করার পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে প্রথম যে রোগী শনাক্ত হন তাঁর বাড়ি দামপাড়া এলাকায়। সৌদিফেরত মেয়ের মাধ্যমে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হন। পরে পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির ছেলের শরীরেও ভাইরাস পাওয়া যায়। এরপর সাতকানিয়া, পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের সাগরিকায় ১০ জন, পাহাড়তলী ৫ জন, সরাইপাড়ায় ৩ জন ও হালিশহরে ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হনন। বৃত্তাকারের এই এলাকাটিও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এটিকে ‘হট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় সম্পৃক্ত চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, আগে চট্টগ্রামের তিনটি এলাকায় করোনার প্রাদুর্ভাব ছিল। সর্বত্র এই ভাইরাস ছড়াতে পারেনি। কারণ, প্রশাসন দক্ষ হাতে ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে পেরেছিল।

শাকিল আহমেদ আরও বলেন, ‘লকডাউন’ এখন শিথিল। তাই ‘গোষ্ঠী সংক্রমণ’ হচ্ছে। দিনের পর দিন করোনা রোগী বাড়তে থাকবে। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এদিকে পোশাক তৈরির কারখানা ও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু হয়েছে। এ কারণে কর্মজীবী মানুষের বিচরণ বেড়ে গেছে। আইরশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আগের মতো সক্রিয় নেই। ফলে গোষ্ঠী সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর প্রথম ৪০ দিনে ১০৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। পরের চারদিন তথা ৪৪তম দিনে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২০৭ হয়। গোষ্ঠী সংক্রমণের কারণে রোগী বাড়ছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, গার্মেন্টস ও কিছু বেসরকারি অফিস খুলেছে। এ কারণে মানুষের বিচরণ বেড়েছে। এরপরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে