খুনিদের সাময়িক বহিষ্কারে খুশি নন আবরারের বাবা

0
188
বুয়েটের সামনে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে খুশি নন তাঁর বাবা বরকত উল্লাহ। আসামিদের আজীবন বহিষ্কার চান তিনি। তবে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে বুয়েট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বুয়েটের উপাচার্য সাইফুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আজ শুক্রবার বৈঠকে করে যে সিদ্ধান্তগুলো জানিয়েছেন, সে বিষয়ে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ প্রথম আলোকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বুয়েট অডিটোরিয়ামে আলোচনাকালে উপাচার্য বলেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং আবরার হত্যা মামলার খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধ হবে। উপাচার্য জানান, সরকার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বস্ত করেছে।

আবরারের বাবা আজ সন্ধ্যার দিকে মোবাইল ফোনে বলেন, সাময়িক বহিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে না। পরে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।

ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আবরারের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে হারিয়েছি। এর চেয়ে বড় ক্ষতি কী হতে পারে। এই ক্ষতি কোনোভাবে পূরণ হতে পারে? পারে না।’ তাঁর দাবি, দ্রুত অভিযোগপত্র দিয়ে সব আসামির ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু রায় হলেই হবে না, ফাঁসিও যাতে দ্রুত কার্যকর হয় সেটাই বুয়েট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

র‍্যাগিং বন্ধ, সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে আবরারের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেকে হারানোর মধ্য দিয়ে আরও শত শত ছেলের জীবন যেন ভালো থাকে; এসব সিদ্ধান্তের জন্য উপাচার্যকে ধন্যবাদ। আর যেন কোনো বাবা-মা তাঁর সন্তানকে না হারায়।’

এদিকে শুক্রবার বাদ জুমা আবরারদের গ্রামের মসজিদে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আবরারের কবর জিয়ারত শেষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তাতে আবরারের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও আশপাশের গ্রামের মানুষ অংশ নেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে