কালের সাক্ষী দম্পতি গাছ

0
189
দম্পতি গাছ

পৃথিবীতে বহু নামের গাছের কথা জানা থাকলেও দম্পতি গাছের কথা হয়তো অনেকেই জানেন না। কালের সাক্ষী হয়ে এ প্রেমিক বৃক্ষ যুগল শত শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকার অদূরে ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ষাইট্রা গ্রামে ।

শত বছরের পুরনো এ গাছ দুটিকে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেবতা তুল্য মনে করেন। গাছ দুটি নিয়ে অনেক ধরনের কল্পকাহিনি এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে তৎকালীন স্থানীয় দেবীদাস বংশের পূর্ব পুরুষরা ভালোবেসে ওই স্থানে পাশাপাশি একটি পাকুড় গাছ ও একটি বটগাছ রোপন করছিলেন। তৎকালীন সময়ের সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, বট গাছকে পুরুষ আর পাকুড় গাছকে নারী গাছ মনে করা হতো। দাস বংশের লোকেরা গাছ দুটিকে ওই সময় হিন্দু ধর্মের রীতি -নীতি মেনে বিয়ে দিয়েছিলেন এমন কথাও এলাকায় প্রচলিত আছে। এ কারণে গাছ দুটি স্বামী-স্ত্রী গাছও বলা হয়।

গাছ দুটিকে ঘিরে রহস্যময় কিছু গল্প স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই জানান, গাছ দুটির ডাল পালা কাটা হয় না কারণ যিনি ডাল কাটতে যান তিনিই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকবারই এমন ঘটনা ঘটেছে। পরে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গাছগুলোয় পূজা দেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

দীর্ঘদিন ডালা-পালা না কাটার কারণে ৬০ টিরও বেশি শিকড় নিয়ে বর্তমানে গাছ দুটি ৫ বিঘা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। শিকড়গুলো একটার সঙ্গে আরেকটা এমনভাবে জড়িয়ে আছে যা দেখলে ভালোবাসার মেলবন্ধন বলেই মনে হবে। প্রতিদিনই দূর -দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এ প্রেমিক বৃক্ষ যুগলের কাছে। এর মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও আছেন। স্থানীয় তো বটেই, ঘুরতে আসা শিশুরাও গাছগুলোর ডালে বসে আনন্দ উপভোগ করে। নিজেদের প্রেম স্মৃতিময় রাখতে অনেক প্রেমিক যুগলও আসেন গাছ দুটির কাছে। আজকাল অনেকে বনভোজনের জন্য এ স্থানটি বেছে নিচ্ছেন। কেউ বা আসছেন শখের ফটোগ্রাফি করতে। এছাড়া স্থানীয় অনেক স্কুল -কলেজের পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজনও হয় এ বৃক্ষ প্রাঙ্গণে।

কীভাবে যাবেন:  ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে মানিকগঞ্জের বাসে করে টুলিভিটায় নামতে হবে । তারপর সরাসরি সিএনজি যোগে যাওয়া যাবে ষাইট্রার বটগাছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে