‘এটা আমার জন্য অনেক চাপের’

0
110
সেলেনা গোমেজ। এএফফি

তাঁকে ইনস্টাগ্রামের রানি বলাই যায়। জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলেনা গোমেজের অনুসারীসংখ্যা ৪২ কোটি ৯০ লাখের বেশি। ইনস্টাগ্রামে অন্য কোনো নারীর এত অনুসারী নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত বিপুলসংখ্যক অনুসারী নিয়ে এই গায়িকা-অভিনেত্রী কী ভাবেন? সংগীতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েই–বা তাঁর প্রতিক্রিয়া কী? গত মঙ্গলবার ইউনিভার্সেল মিউজিক গ্রুপ ও থ্রাইব গ্লোবাল মিউজিক অ্যান্ড হেলথ কনফারেন্সে হাজির হয়ে এমন অনেক প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন সেলেনা। তাঁর বক্তব্য নিয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম হলিউড রিপোর্টার।
‘এটা আমার জন্য অনেক চাপের,’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনুসারী নিয়ে বলেন সেলেনা। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘তরুণেরা নানা বিষয়ে আমার সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করেন। নারীদের কেউ হয়তো বিচ্ছেদ নিয়ে বলেন, কেউ বলেন কেমোথেরাপির অভিজ্ঞতা নিয়ে। আমি সব সময় তাঁদের উৎসাহকে স্বাগত জানাই। তবে এটা অনেক বড় দায়িত্ব, একটু চাপেরও বটে।’

গানের সঙ্গে ইদানীং অভিনয়েও নিয়মিত, প্রযোজনাও করছেন। নিজে দীর্ঘ সময় মানসিক অবসাদে ভুগেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রায়ই বলতে শোনা যায় সেলেনাকে। এ বিষয়ে কি বই লেখার ইচ্ছা আছে? ‘না। আমি ততটা জ্ঞানী নই। মনে হয় না, এটা আমি করব (বই লেখা)। তবে কে জানে, একদিন হয়তো আগ্রহী হতেও পারি। তবে এখন অবশ্যই নয়,’ বলেন তিনি।

সেলেনা গোমেজ। এএফফি
সেলেনা গোমেজ। এএফফি

বছর কয়েক আগে সেলেনা গোমেজের জীবন নিয়ে নির্মিত হয় তথ্যচিত্র মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি। অ্যাপল টিভি প্লাসে প্রচারিত সেই তথ্যচিত্রে নিজের শারীরিক, মানসিক অসুস্থতা, জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছিলেন।

সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন ওই তথ্যচিত্র প্রসঙ্গেও, ‘আইডিয়াটা শোনার পর মনে হয়েছিল, এটা (তথ্যচিত্র) আমার বিপক্ষে যাবে। অনেক দিন তাই সংশয়ে ছিলাম। একদিন মনে হলো, সবার জন্য আমার জীবনের দরজা খুলে দেওয়া যাক। যখন মুক্তি পেল, তখন মনে হয়েছিল, ঘাড় থেকে বড় একটা বোঝা নেমে গেল। মুক্তির আগপর্যন্ত চাপ অনুভব করছিলাম। আমি নিজে হয়তো তথ্যচিত্রটি আর দেখব না, তবে শেষ পর্যন্ত যে এটা করতে রাজি হয়েছি, সে জন্য গর্বিত।’

সেলেনা গোমেজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
সেলেনা গোমেজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে হলিউডে। এ প্রসঙ্গে সেলেনা বলেন, ‘আমার মনে হয় না, আমার কোনো সহকর্মী এটিকে স্বাগত জানাবেন। এটা আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়। তবে এটাও মনে হয়, এআই কখনো মানুষের জায়গা নিতে পারবে না।’

সেলেনা মূলত গানের মানুষ হলেও অনেক দিন ধরেই গান থেকে দূরে। তাঁর ভক্তদের জন্য সুখবর, শিগগিরই মুক্তি পাবে তাঁর নতুন সিঙ্গেল। এ ছাড়া আসবে অ্যালবামের ঘোষণাও। আগামী মাসে বড় একটি কার্যক্রমও শুরু করতে যাচ্ছেন সেলেনা। তাঁর অলাভজনক সংস্থা রেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান। এই গালা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হবে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.