আ.লীগের চার সংগঠনের সম্মেলন হয়নি সাত বছরেও

0
187
আওয়ামীলীগের চার সংগঠন

আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রচলিত রেওয়াজ হলো দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে সব সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন শেষ করা। তবে এই সংগঠনগুলোর তিন বছর মেয়াদের কেন্দ্রীয় কমিটির বয়স সাত বছর হয়ে গেলেও নতুন সম্মেলন হয়নি।

অধিকাংশ সাংগঠনিক জেলায় নতুন করে কমিটিও করা যায়নি। এখন ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে তড়িঘড়ি করে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এরা হলো আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগ। নভেম্বরের মধ্যেই এই চার সংগঠনের এ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ৭৮টি। মূল দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগের সাংগঠনিক জেলাও একই। তবে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক জেলার সংখ্যা ৭৮-এর বেশি। নতুন নতুন শ্রমিক অঞ্চলে জেলা মর্যাদার কমিটি করেছে সংগঠনটি। তবে মোট সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। চার সংগঠনের কোনোটিই সব জেলার নতুন কমিটি দিতে পারেনি।

আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর হবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। এর আগে সব জেলার সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও গত তিন বছরে মৌলভীবাজার জেলা ছাড়া কোনো জেলায় নতুন করে সম্মেলন হয়নি। এর মধ্যেই বুধবার রাতে যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের নতুন কমিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চার সংগঠনের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারটি সংগঠনেরই সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালে। এ হিসাবে ২০১৫ সালে পরবর্তী সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগ গত বছর জাতীয় সম্মেলন করার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। এখন জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরলে চার সংগঠনের নেতারা আলাদা করে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। দলীয় প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পরপর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যুবলীগের তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অনীহার কারণেই নির্ধারিত সময়ের পরও সম্মেলন করা যায়নি বলে জানিয়েছেন কয়েকজন যুবলীগ নেতা। তাঁরা বলেন, গত সাত বছরে নতুন করে ৩৭টি জেলার কমিটি করা হয়েছে। এখন জাতীয় সম্মেলনের আগে বাকি জেলার কমিটি করা সম্ভব নয়। তাই পুরোনো কমিটি দিয়েই সম্মেলন করতে হবে। যদিও যুবলীগের ৪৭ বছরের ইতিহাসে কোনো জাতীয় সম্মেলনেই ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়নি। তাই পুরোনো কমিটি থেকে কাউন্সিলর নিয়ে সম্মেলন করলেও কোনো ব্যত্যয় হবে না।

এ বিষয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, জাতীয় সম্মেলন করার আগেই সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন করা বাঞ্ছনীয়। নানা কারণে তা করা যায়নি। এখন বাকি জেলার মধ্যে যতটা সম্ভব, তা শেষ করা হবে। সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন তাঁরা।

আরেক সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ১১ জুলাই। এই সংগঠনের দুজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০০৩ সালে প্রথম সম্মেলনের পর ২০১২ সালে হয় দ্বিতীয় সম্মেলন। এরপর ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৫টির মতো নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। বাকিগুলো করা যায়নি। এর মধ্যে খুলনা মহানগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরের কমিটি অনেক পুরোনো।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ বলেন, অধিকাংশ কমিটি করা হয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে কিছু আছে, যেগুলো বেশি পুরোনো নয়। তাই এখন সম্মেলন করতে কোনো অসুবিধা হবে না।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। এরপর প্রায় চার বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ায় বর্তমান কমিটি দিয়েই চলছে কৃষক লীগের কার্যক্রম। গত সাত বছরে ১৫টি ছাড়া বাকি সাংগঠনিক জেলায় নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। তাই জাতীয় সম্মেলন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই সংগঠনটির নেতাদের। ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় সম্মেলনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সংগঠনের প্রস্তাবিত তারিখ নিয়ে নেত্রীর (আওয়ামী লীগের সভাপতি) সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। গত সাত বছরে ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্মেলন করার আগ্রহ প্রকাশ করে গত বছরের শুরুতে নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। নেত্রী চূড়ান্ত না করায় সম্মেলন করা হয়নি। এ বিষয়ে সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ প্রথম আলোকে বলেন, সম্মেলনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায়। এর এক সপ্তাহ পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। সমালোচনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের দুই নেতার। আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সময় চূড়ান্ত করেন। এরপর থেকেই সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হতে থাকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে