আসামের পর এবার কর্ণাটকে এনআরসি

0
185
নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য লড়ছেন আসামের এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকেরা। ছবি: আইএএনএস

ভারতে আসামের পর এবার জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্ণাটক রাজ্য সরকার। রাজ্যে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসভরাজ ভোমাই বলেন, ‘কর্ণাটক এমন রাজ্য, যেখানে সীমান্তের ওপার থেকে অনেকে এসে বসতি স্থাপন করেছে। এখানে প্রচুর ইস্যু থাকায় আমরা সম্ভাব্য সব তথ্য সংগ্রহ করছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।’

সূত্র বলছে, বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে নেলমঙ্গলা তালুকে একটি বিদেশি আটককেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আটককেন্দ্র থেকে অভিবাসীদের পালিয়ে যেতে বাধা দিতে কেন্দ্রের প্রাচীরগুলো কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো এক সরকারি কার্যালয় প্রাঙ্গণ সংস্কার করে একে আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

গত জুলাইয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে দ্রুত একটি আটককেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেয়। অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসিত না করা পর্যন্ত তাদের বসবাসের জন্য এটি ব্যবহৃত হবে বলে জানায় এনডিটিভি।

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা হয়, বেঙ্গালুরুর আশপাশে অতিরিক্ত আরও কয়েকটি আটককেন্দ্র তৈরি করা হবে। কর্ণাটক রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসরত আফ্রিকান ও বাংলাদেশির প্রকৃত সংখ্যা হিসাব করে আটককেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দেশের পূর্বাঞ্চলজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের জড়িত থাকার অভিযোগে বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্য পিসি মোহন এবং মহাদেবপুরের এমএলএ (বিধায়ক) অরবিন্দ লিম্বাবালি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ সুবিধা চান।

বিরোধী দল কংগ্রেস সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানালেও শর্ত জুড়ে দিয়েছে। কর্ণাটক কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি ঈশ্বর খন্দ্রে বলেন, ‘রাজ্যে যাঁরা অবৈধভাবে রয়েছেন, তাঁদের অবশ্যই দেশছাড়া করতে হবে। তবে এনআরসির কারণে ভারতীয় নাগরিকদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সরকারকে সেই বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হওয়ার আগেই এনআরসির জের ধরে রাজ্য পুলিশ বেঙ্গালুরুতে একটি আটককেন্দ্র স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

৩১ আগস্ট আসামে এনআরসি প্রকাশের পর ১৯ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে। বাদ পড়া এসব মানুষের অনেকেই বাংলাভাষী। যুগ যুগ ধরে আসামে বসবাসরত এই নাগরিকদের এখন মামলা লড়ে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। সরকার অবশ্য বলছে, এনআরসিতে যাঁদের নাম নেই, এখনই তাঁদের বিদেশি বা অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করা হবে না। তাঁদের বৈদেশিক ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে