অনুপ্রবেশের মামলায় সাজা শেষে এক দম্পতিকে শিশুসন্তানসহ ভারতে ফেরত

0
83
ভারতে ফেরত পাঠানোর আগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুমন দে, তাঁর স্ত্রী সুজাতা দে এবং শিশুসন্তান শুভজিৎ। সোমবার দুপুরে দর্শনা শুল্ক চেকপোস্ট

হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৬ বিজিবির দর্শনা আইসিপি (আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট) কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবদুল জলিল, দর্শনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম রেজা, দর্শনা ইমিগ্রেশনের এসআই আবু নাঈম, পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) সদস্য কামাল উদ্দিন এবং এনজিও প্রতিনিধি ইউনুস আলী। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের গেদে আইসিপি কমান্ডার নগেন্দার পাল, কৃষ্ণগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবিন মুখার্জি, গেদে ইমিগ্রেশন ইনচার্জ এস কে তিওয়ারী, শুল্ক বিভাগের ইনচার্জ অজয় নারায়ণ রায়, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিআইবি) সদস্য অমিত রায় এবং এনজিও প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন নাথ।

এদিকে খবর পেয়ে দর্শনা-গেদে সীমান্তের শূন্যরেখায় ছুটে আসেন সুমন দের ছোট মেয়ে চিত্রা দে (১৩) ও বড় ভাই সুখেন্দু দে। প্রায় দুই বছর পর মেয়েকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সুজাতা দে। বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চিত্রাও কাঁদতে থাকে। এরপর মুঠোফোনে ভিডিও কলে বড় মেয়ে মিত্রা দে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সুমন-সুজাতা দম্পতি।

পেশায় রাজমিস্ত্রি সুমন দে জানান, যশোরের রূপদিয়ায় বসবাসকারী অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাতক্ষীরার ভোমরা দিয়ে দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। রূপদিয়ায় মাসখানেক অবস্থানের পর ২১ মার্চ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় বিজিবির হাতে ধরা পড়েন।

বিজিবি জানায়, সুমন দে ও সুজাতা দেকে আসামি করে ১৯৭৩ সালের পাসপোর্ট অধ্যাদেশ ও ১৯৫২ সালের দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্টে মহেশপুর থানায় ওই বছর ২১ মার্চ একটি মামলা করা হয়। পরদিন তাঁদের ঝিনাইদহের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক (সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আসামিদের ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠান।

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের উপকারাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম জানান, ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয় আদালত) মো. ওয়াজিদুর রহমান ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর সুমন দে ও তাঁর স্ত্রী সুজাতা দেকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। শিশু শুভজিৎ দের বাংলাদেশি অভিভাবক না থাকায় তার মায়ের কাছে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়। তবে আদেশের আগেই (জুন মাসে) তাঁদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। করণীয় বিষয়ে জেলা কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি চালাচালি চলে। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য জেলার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, আসামিদের শাস্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় (তাঁদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে) সব নিয়মকানুন অনুসরণপূর্বক স্বদেশ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাঁদেরকে অতিরিক্ত ১৬ মাস জেলা কারাগারে বন্দী থাকতে হয়।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য কৃষ্ণগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবিন মুখার্জি বলেন, ‘অবৈধভাবে বাংলাদেশ প্রবেশের অভিযোগে দণ্ডিত সুমন দে এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত দিলেন। বিএসএফ এবং আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের গ্রহণ করলাম। তাঁদেরকে নিশ্চিন্তে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করব।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.