বিপিএল ২০২৬ রংপুরকে হারিয়ে বিপিএলে প্রথম জয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের

0
33
রংপুরকে হারিয়ে বিপিএলে প্রথম জয় পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবার বিপিএলে অংশ নিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ভক্তদের আশা ছিল প্রথম আসরেই বাজিমাত করবে দলটি। কিন্তু টানা ৬ হারের ভক্তদের মন ভেঙে দিয়েছে সৌম্য-জাকেররা। তবে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে শক্তিশালী রংপুরকে হারিয়ে বিপিএলে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে নোয়াখালী।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আগে ব্যাট করতে নেমে রংপুরকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল নোয়াখালী। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান তুলতে পারে রংপুর। এতে ৯ রানের জয় পায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রংপুরের দুই ওপেনার ডেভিড মালান এবং লিটন দাস। ওপেনিং জুটি থেকে এসেছে ২১ রান। ১৩ বলে ১৫ রান করেছেন লিটন। মালান ফিরে যান পরের ওভারে। ১০ বলে ৭ রানের ইনিংস খেলে দলের ২৩ রানের মাথাতে বিদায় নেন মালান।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয় এবং ইফতিখার আহমেদ। রয়েসয়ে এগিয়েছেন দুজন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান তোলে রংপুর রাইডার্স। পাওয়ারপ্লে শেষেও এগিয়েছে হৃদয়-ইফতিখারের জুটি। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে দেখেশুনে এগিয়েছেন দুজন।

কার্যকরী ব্যাটিংয়ে বোর্ডে তুলেছেন রান। ইফতিখার ৩১ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে দলের ৮৬ রানের মাথাতে থামেন। পাঁচে নেমে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এদিন সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন রিয়াদ।

হৃদয় এক প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন। তবে রিয়াদের আউটের পরের ওভারে থেমেছেন হৃদয়ও। ২৮ বলে ২৯ রান করে দলীয় ১০৭ রানের মাথাতে থেমে যান তাওহীদ হৃদয়।

শেষ দিকে দলের হাল ধরেন খুশদিল শাহ। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে করেছেন ৪ রান। খুশদিলের সাথে যোগ দেন হ্যাটট্রিক করা মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের জয়ের আশা টিকিয়ে রাখেন খুশদিল।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। রংপুরের হাতে ছিল ৪ উইকেট। স্ট্রাইকে ছিলেন ক্রাইসিস ম্যান খুশদিল। বোলিংয়ে আসেন হাসান মাহমুদ। প্রথম বলেই আউট হয়েছেন খুশদিল।

পরের বলে ১ রান নেন নতুন ব্যাটার সুফিয়ান মুকীম। পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ৩ বলে ১৪ রানে নেমে আসে সমীকরণ।

পরের বলে চার মেরে দেন নতুন ব্যাটার মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু হার এড়াতে পারেননি তিনি। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান তুলতে পারে রংপুর। এতে ৯ রানের জয় পায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে ২৫ রান তুলে শুরুটা ভালোই করেছিল নোয়াখালী। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি শাহাদাত হোসেন। ৮ বলে ১৪ রান করেন তিনি। তিনে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তুলতে থাকেন হাবিবুর রহমান সোহান।

কিন্তু ১৬ বলে ৩০ রান করে ক্যাচ আউট হন তিনি। ২৭ বলে ৩১ রান করে তাকে সঙ্গ দেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার। এরপর নবী ডাক আউট এবং হায়দার আলী ১ রান করে ফিরলে ছন্দ হারায় নোয়াখালী। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করতে থাকেন জাকের আলী।

১৯তম ওভারে মোস্তাফিজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন জাকের। ৩৭ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। পরের বলেই ডাক আউট হন মেহেদী রানা।

২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বলে ক্যাচ আউট হন ২১ বলে ২৮ রান করা এই ব্যাটার। পরের দুই বলে জহির খান ও বিলাল সামিকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক তুলে নোয়াখালীকে ১৪৮ রানে অলআউট করেন এই বাঁ-হাতি পেসার।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.