জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদ আটজনের পরিচয় শনাক্ত: সিআইডি

0
25
সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপন উপলক্ষে আজ সোমবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে

রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অজ্ঞাতনামা শহীদ ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া শহীদেরা হলেন মো. মাহিন মিয়া (২৫), আসাদুল্লাহ (৩১), পারভেজ বেপারী (২৩), রফিকুল ইসলাম (৫২), সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (২৯), ফয়সাল সরকার (২৬) ও কাবিল হোসেন (৫৮)।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক–ই–আজম; স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) অধ্যাপক সায়েদুর রহমান, সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিআইডির তথ্য অনুসারে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন হওয়া ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন করে সিআইডি। উত্তোলনের পর মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে স্বজনদের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে সিআইডি। পরিচয় শনাক্ত করতে অজ্ঞাত শহীদদের নয়টি পরিবারের সদস্যরা ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন।

কার্যক্রম সম্পর্কে সিআইডিপ্রধান ছিবগাত উল্লাহ বলেন, পরিচয় শনাক্ত ছাড়াই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রায়ের বাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। এটি জাতির মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। আটজনের মরদেহ শনাক্তের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি কিছুটা হলেও দায়মুক্তি হলো।

এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিআইডি আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে। গত বছরের ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর এসব মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন করে সিআইডি। এতে দেশি-বিদেশি ফরেনসিক–বিশেষজ্ঞ সহায়তা করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তখন ১১৪ জনের পরিচয় জানা যায়নি। তখন অজ্ঞাতনামা এসব মরদেহ রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে এই মরদেহগুলো দাফন করেছিল।

আঞ্জুমান মুফিদুলের হিসাব অনুযায়ী, রায়েরবাজার কবরস্থানে তারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ৮০ জনের এবং আগস্টে ৩৪ জনের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছিল।

পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৪ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এসব মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদনটি করেছিলেন মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.