কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের শিক্ষকরা, অনিশ্চয়তায় বার্ষিক পরীক্ষা

0
8
প্রাথমিক শিক্ষক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সারাদেশে সাড়ে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যত বন্ধ রয়েছে। আগামী সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, রোববার রাতের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতের মধ্যে তাদের দাবি পূরণে পদক্ষেপ না নিলে, সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করা হবে। এই কর্মসূচিতে দেশের প্রায় তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, আমরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছি। রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন ছাড়া আমাদের সামনে কোনো পথ থাকবে না।

প্রধান শিক্ষকরা ইতোমধ্যে দশম গ্রেডে বেতনভুক্ত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনও ১৩তম গ্রেডে আছেন। গ্রেড উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধানসহ কয়েকটি দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন।

সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি:
বিজ্ঞাপন

১. বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ।

২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান।

৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি দিতে হবে।

শিক্ষকরা এর আগে গত ৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন, যেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছিলেন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফিরলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার কর্মবিরতিতে ফিরেছেন।

গত ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান আন্দোলনরত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষক নেতারা দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.