‘শ্রমজীবীদের কম মজুরি, অথচ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিলাসবহুল জীবনযাপন’ ইস্যুতে বিক্ষোভে ফুঁসছে ইন্দোনেশিয়া। এরই মধ্যে দেশটির রাজধানী জাকার্তায় পুলিশের গাড়িচাপায় এক বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর বিক্ষোভের আগুনে রীতিমত ঘি ঢেলে দিয়েছে। সবশেষ সুলাওয়েসি প্রদেশের আঞ্চলিক সংসদ ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার (৩০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, নিহত তিনজন হয়তো সংসদ ভবনের ভেতরে আগুনে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে দুজন ভবন থেকে লাফ দেওয়ায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও সংসদ সদস্যদের ভাতা বাড়ানোর প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তায় পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভের জন্য জড়ো হন কয়েক’শ মানুষ। শিক্ষা বাজেট ও সরকারি স্কুল মিল কর্মসূচি নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শুক্রবার এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এদিন রাজধানী জাকার্তায় পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয় পুলিশ। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এক বিক্ষোভকারী।

সংকটপূর্ণ এই মুহূর্তে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। পুলিশের গাড়িচাপায় নিহত ও তার পরিবারের জন্য শোক প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত অ্যাকশনে আমি হতবাক ও হতাশ।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার জাকার্তায় বিচ্ছিন্নভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং পরিবহন অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বান্দুং ও জগজাকার্তা শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার জাকার্তার মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্ষোভস্থলের কাছে একটি স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে প্রাদেশিক মালিকানাধীন ট্রান্সজাকার্তা বাস সার্ভিসও বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।