সিলেটে ‘হারিয়ে’ গেছেন নেদারল্যান্ডসের কোচ…

0
25
নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ রায়ান কুক

একটি ইউরোপীয় দেশের জাতীয় দলের কোচ। তাঁর আশপাশে সব সময় নিরাপত্তাকর্মীরা থাকেন। থাকেন আরও অনেকেই। এর মধ্যে তিনি কোথায় হারাবেন? এমন প্রশ্ন আপনার মাথায় আসারই কথা।

শিরোনাম দেখে ভড়কে যাবেন না। সত্যিই, নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ রায়ান কুক সিলেটে হারিয়ে গেছেন। সিলেট বলে ভাববেন না প্রকৃতি আর সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে হারিয়ে গেছেন। ঘটনা সেটাও নয়।

একটি ইউরোপীয় দেশের জাতীয় দলের কোচ। তাঁর আশপাশে সব সময় নিরাপত্তাকর্মীরা থাকেন। থাকেন আরও অনেকেই। এর মধ্যে তিনি কোথায় হারাবেন? এমন প্রশ্ন আপনার মাথায় আসারই কথা।

কিন্তু নেদারল্যান্ডসের কোচ কুক যে সত্যিই আজ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন! অন্তত নেদারল্যান্ডসের মিডিয়া ম্যানেজার কোরে রুটগার্ডের কাছে তো অবশ্যই। ভদ্রলোকের বাংলাদেশে এসে একটা অম্লমধুর অভিজ্ঞতা হচ্ছে। সাংবাদিকদের আগ্রহ দেখে একদিকে খুশি হচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের সামলাতে হিমশিমও খাচ্ছেন।

এমনিতে সারাক্ষণ ঘড়ির কাঁটা মেনে চললেও আজ যে তিনি তা পারলেন না, তা–ও তো এ কারণেই। প্রায় গোটা দশেক সাক্ষাৎকারের আবদার মিটিয়েছেন। এরপর খেলোয়াড়দের অনুশীলন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে তিনি যখন সিলেটের সংবাদ সম্মেলনকক্ষের দিকে দৌড়াচ্ছেন, ততক্ষণে মিনিট পাঁচেক দেরি হয়ে গেছে।

নেদারল্যান্ডস দলের মিডিয়া ম্যানেজার কোরে রুটগার্ডের (বাঁয়ে) সঙ্গে কোচ রায়ান কুক
নেদারল্যান্ডস দলের মিডিয়া ম্যানেজার কোরে রুটগার্ডের (বাঁয়ে) সঙ্গে কোচ রায়ান কুক

কিন্তু রুটগার্ড একা দৌড়াচ্ছেন কেন? কৌতূহলটা তৈরি হয়েছিল তখনই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বড়জোর সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকতে পারেন, কিন্তু কথা তো বলবেন কুকই। ডাচ মিডিয়া ম্যানেজারের পেছন–পেছন এসে অস্থিরতাটা টের পাওয়া গেল। আসলে তিনি ভেবেছিলেন, কুক বোধ হয় অন্য পথ ধরে সংবাদ সম্মেলনে চলে এসেছেন।

কিন্তু এসে দেখলেন, কোচ কোথাও নেই। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি তাঁর শুরু হলো তখনই। কোথায় যেন দৌড়ে চলে যান হুট করে, ফিরে এসে সাংবাদিকদের আশ্বস্তও করেন, ‘আর দু-তিন মিনিট…।’ কিন্তু আবার তাঁকে খুঁজে না পাওয়ার হতাশা নিয়ে ফিরে আসেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষে।

মিনিট বিশেক এমন চলার পর ডাচ মিডিয়া ম্যানেজার হয়ে পড়লেন ভীষণ উদ্বিগ্ন। বলছিলেন, ‘হি হ্যাজ টু বি হিয়ার…’, মানে এখানেই তো থাকার কথা।

অস্থির দৌড়ঝাঁপের মধ্যেই রুটগার্ড প্রায় আশা ছেড়ে দিলেন।  এদিক-ওদিক ফোন করেও তাঁর কোনো হদিস পাচ্ছিলেন না। উদাস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকলেন মাঠের মাঝখানে। ততক্ষণে নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেটাররা ওয়ার্মআপও শুরু করেছেন, কিন্তু কোচেরই কিনা দেখা নেই!

একসময় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন রায়ান কুক
একসময় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন রায়ান কুক

রুটগার্ডের উদ্বেগ না বেড়ে উপায় কী! প্রায় আধঘণ্টার এই অস্বস্তিতে তাঁর কাটল ঘড়ির কাঁটায় যখন ছয়টার কাছাকাছি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিঁড়ি বেয়ে তখন নেমে এলেন কুক।

উৎসুক সংবাদকর্মীদের বড় একটা অংশই তখন দাঁড়িয়ে আছে সংবাদ সম্মেলনকক্ষের বাইরে। রুটগার্ডের আধঘণ্টার উদ্বেগটা ছুঁয়ে গিয়েছিল তাঁদেরও। কুককে কাছে পেতেই তাই প্রশ্ন, ‘এতক্ষণ কোথায় ছিলেন, সত্যিই কি হারিয়ে গিয়েছিলেন?’ মুখে একটু অপরাধবোধ নিয়েই কুক বললেন, ‘সবার কাছে আমি দুঃখিত। আসলে ম্যাচ রেফারির রুমে ছিলাম…’

কোচের জন্য ম্যাচের আগের দিন যা একরকম নিয়মই। কিন্তু ডাকটা সংবাদ সম্মেলনের সময় আসাতেই যত গন্ডগোল। কুকের ফেরার খবর শুনে স্বস্তি মিলল ঠিকই। কিন্তু মিডিয়া ম্যানেজারের কাছে তো তিনি হারিয়েই গিয়েছিলেন।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসেও কুককে হারাতে হলো পেছনের দিনগুলোতে। বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন একসময়। এখানকার স্মৃতি, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবার দেখা হওয়া…সাংবাদিকদের বেশির ভাগ কৌতূহল থাকল অতীতের দিনগুলোকে নিয়েই।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে রায়ান কুকের (ডানে) অনেক স্মৃতি
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে রায়ান কুকের (ডানে) অনেক স্মৃতি

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রুটগার্ড হয়তো মনে মনে বলছিলেন, ‘অতীতে হারাও; কিন্তু অদৃশ্য হয়ে যেয়ো না।’ সাংবাদিকদের যে কথাটা বলে তাড়াতাড়ি সাক্ষাৎকার শেষ করেছেন, বললেন হয়তো ওই কথাটাও, ‘কাল আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ!’

সেখানে কুক না থাকলে হারানোর ছকটা কষবেন কে!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.