জার্মানির বার্লিনে দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ সম্মেলন

0
332
বাংলাদেশ সম্মেলনে পাঁচটি কর্মশালা হওয়ার কথা আছে। বার্লিন, জার্মানি, ১৭ অক্টোবর।

জার্মানিতে বাংলাদেশবিষয়ক ফোরামের উদ্যোগে সপ্তমবারের মতো বাংলাদেশ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও বাংলাদেশ ফোরামের সমন্বয়ক ড্রেক সাম।

দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আগত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জার্মানিতে বাংলাদেশবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ও এশীয় ডেস্ক এবং জার্মান পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশীয়বিষয়ক কমিটির সংসদ সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনে চারটি অধিবেশনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আলোচনা ছাড়াও পাঁচটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সম্মেলন শুরুর দিন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাংলাদেশের পাঁচ বছরমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। এরপর গণতান্ত্রিক কাঠামো অনুশীলনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিকাশ ও প্রতিফলন বিশ্লেষণ নিয়ে মুক্ত আলোচনা সঞ্চালন করেন বাংলাদেশ ফোরামের মাক্স স্টিলে।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে চারটি অধিবেশনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে। বার্লিন, জার্মানি, ১৭ অক্টোবর।

 

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও চর্চায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রভাব, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে বলেন জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সমন্বিত রাষ্ট্রদূত মারকুস পটসেল। এই সমন্বিত আলোচনায় আরও অংশ নেন জার্মান পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য ফ্রিয়ফ স্মিড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহকারী প্রধান ইভো সুটে। এই পর্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক প্রধান স্টেফান ফ্রোবিয়ান।

সম্মেলনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশে জনগণের উন্নয়ন বা অধঃপতন: সমস্যা ও সমাধান শনাক্তকরণে পাঁচটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করবেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথিরা এবং সঞ্চালন করবেন জার্মানিতে বাংলাদেশবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মডেল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিকল্প মতামতবিষয়ক কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ শাখার সুলতানা কামাল। কর্মশালাটিতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিরোধ দূরীকরণ পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলফগ্যাং হাইনরিশ।

উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও স্থানীয় জনগণের ওপর এর প্রভাববিষয়ক কর্মশালাটি পরিচালনা করেন খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষক মনজুর মোরশেদ, সঞ্চালনায় ছিলেন ব্রেড ফরদ্য ওয়াল্ড।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ‘অর্থনৈতিক স্বার্থ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ভূমির অধিকার’ শীর্ষক কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। সঞ্চালনে ছিলেন অহিংস শিক্ষা পদ্ধতি ইনস্টিটিউটের ইয়োখেন নয়েম্যান।

 

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক কর্মশালাটি পরিচালনা করেন গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহা মির্জা। সঞ্চালক ছিলেন সংঘাত দূরীকরণ পরামর্শক এলিজাবেথ স্ট্রসাইড।

‘পর্যটনের জন্য আবাদযোগ্য জমির বাণিজ্যিকীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সম্পদের ব্যবহারের হ্রাসকরণ’ শীর্ষক কর্মশালাটি পরিচালনা করেন কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক নৃবিজ্ঞানে স্নাতক কার্যক্রমের হানা সামস আহমেদ।

শুক্রবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলোয় নাগরিকদের অংশগ্রহণের উপায় ও সম্ভাবনা নিয়ে সমন্বিত আলোচনা সঞ্চালন করবেন ইয়োখন নয়েম্যান।

জার্মানির বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজিত দুদিনব্যাপী সম্মেলনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও পরিবাদী, মানবাধিকারকর্মী এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া জার্মান সফররত বাংলাদেশ বাণিজ্যিক দলের বেশ কিছু সদস্য এবং জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। দুদিনব্যাপী সম্মেলনে আলোকচিত্রী সরাফ আহমেদের বাংলাদেশে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির ও বাংলাদেশে বর্ষাকালের জীবন নিয়ে ছবির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে