২০২৬ সালে বেতন বাড়বে ৫৬ শতাংশ, যদি জানা থাকে এআই এজেন্টের ব্যবহার

0
22
এজেন্টিক এআই

প্রযুক্তি বিশ্বে এখন নতুন বিস্ময়—‘এজেন্টিক এআই’। সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটবট শুধু আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়, কিন্তু এআই এজেন্ট আপনার হয়ে কাজ সম্পন্ন করে দিতে পারে। ২০২৬ সালে প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে ও বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এআই এজেন্ট পরিচালনায় দক্ষ হয়ে ওঠার বিকল্প নেই।

কেন শিখবেন এআই এজেন্ট?

অনেকের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো জুনিয়র কর্মীদের জায়গা দখল করে নেবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারণাটি আংশিক সত্য। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো, যাঁরা এই এআই এজেন্ট পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতে জানবেন, তাঁদের জন্য খুলে যাবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কোম্পানি ‘আসানা’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এমন কর্মী খুঁজছে, যাঁরা প্রশাসনিক বা গবেষণামূলক কাজের চাপ এআই দিয়ে সামলে নিয়ে উচ্চতর কৌশলগত সিদ্ধান্তে সময় দিতে পারবেন। অর্থাৎ ক্লারিক্যাল কাজের চেয়ে এখন সৃজনশীল ও কৌশলগত দক্ষতার কদর বাড়ছে।

বেতন বাড়তে পারে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত

বিশ্বখ্যাত অডিট ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির তথ্যমতে, যাঁরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী, তাঁদের আয়ের সম্ভাবনা সাধারণ কর্মীদের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি। কোম্পানিগুলো এখন খরচ কমাতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই এজেন্টকে তাদের মূল কৌশলের অংশ করে নিচ্ছে। ফলে এই প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীরা হয়ে উঠছেন অপরিহার্য।

ফাইল ছবি

এআই এজেন্ট আসলে কী?

সহজ কথায়, এআই এজেন্ট হলো আপনার একজন ‘স্বয়ংক্রিয় সহকর্মী’। ধরুন, আপনি তাকে গ্রাহকদের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিলেন। সে বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে নিজে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে আপনার সামনে উপস্থাপন করবে। আপনার কাজ হবে শুধু সেটি যাচাই করে চূড়ান্ত করা।

প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন

এআই এজেন্ট যতই দক্ষ হোক না কেন, মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প নেই। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই সব সময় সঠিক বা নৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধান বা ‘হিউম্যান–ইন–দ্য–লুপ’ পদ্ধতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি তাই কিছু বিশেষ দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে—

• ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং ও সঠিক মূল্যায়ন।

• সৃজনশীলতা ও জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা।

• কার্যকর যোগাযোগ ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.