প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’খ্যাত ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার ওই মন্তব্য নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর এই ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।
আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এ কথাটি প্রধান উপদেষ্টা এই প্রথমবার বলেননি। তিনি ২০১২ সালে একই ধরনের কথা বলেছিলেন। ২০২৩ সালেও জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিশিদা নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশকে একটা ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার কথা বলেছিলেন এবং তিনি এ প্রসঙ্গে সিঙ্গেল ইকোনমিক জোনের (একক অর্থনৈতিক অঞ্চল) কথাও বলেছিলেন, যেটিকে ‘বিগ বি ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘দেখুন আগেই বলেছি, কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ) এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রে অ্যাকসেস (প্রবেশ) পাওয়া খুব কঠিন। আমরা কিন্তু কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেব না। দেওয়ার অবস্থাও আমাদের নেই। কেউ যদি নেয় ভালো, আর না নিলে কী করব আমি, কিছু করার নেই। অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পথে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন। এখন যদি এর অন্য রকম ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, আমরা তো সেই ব্যাখ্যা ঠেকাতে পারছি না। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারব, আমরা কানেক্টিভিটি সবার ইকুইটিফুল বেনিফিটের (সমান সুবিধা) জন্য দিতে আগ্রহী আছি। কেউ নেবেন তো ভালো, না নিলে নেবেন না।’
এই অঞ্চলে কানেক্টিভিটি অত্যন্ত প্রধান বিষয় উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া সেটি করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে সেটাও এই অঞ্চলের কোনো দেশ, বিশেষ করে ছোট ছোট দেশগুলো এককভাবে তা মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। যখন জোটবদ্ধভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে, তখন সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। আশাবাদী থাকতেই হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা চীন সফর করছেন কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। এগুলো কিন্তু “জিরো সাম গেম” নয় যে এক জায়গায় গেলে অন্য জায়গায় আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে। আমরা সব জায়গায় গিয়ে আমাদের সুবিধা অনুযায়ী এবং পারস্পরিক সুবিধা অনুযায়ী যতটুকু এগোতে পারি, আমরা সেটার চেষ্টা করব। সেই কারণে আমরা সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা এগোতে চাই না।’
সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধা নিয়ে আলোচনায় নেপাল ও ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ, যাদের কোনো সমুদ্র নেই এবং ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যও স্থলবেষ্টিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য সাগর দিয়ে সারা বিশ্বে রপ্তানির সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য নিয়ে ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পবন খেরা এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ চীনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভারতকে ঘিরে ফেলার জন্য। বাংলাদেশ সরকারের এই আচরণ উত্তর–পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক।’ এর বাইরে ভারতের বিভিন্ন রাজনীতিক এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।