তিন দফা দাবিতে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) মশালমিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা মশাল হাতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন অনেকেই।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়ক আটকে ‘আমার সোনার বাংলায়/ বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘কোটা না মেধা/ মেধা, মেধা’, ‘কোটার নামে বৈষম্য/ চলবে না, চলবে না’, ‘এই মুহূর্তে দরকার/ কোটা প্রথার সংস্কার’,‘জনে জনে খবর দে/ কোটা প্রথার কবর দে’—এমন আরও নানা স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী সালমান তালিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বুয়েটের এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ, হুমকিদাতার যথাযথ শাস্তি ও গত বুধবার ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ করছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের পূর্বঘোষিত তিন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি
বেশ কয়েক মাস ধরে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবিগুলো হলো, প্রকৌশল নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী হওয়া, কারিগরি দশম গ্রেডে উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবে না মর্মে আইন পাস করে গেজেট প্রকাশ করা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কারিগরি পদে (দশম গ্রেড) শুধু ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরাই আবেদন করতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে তারা সরাসরি নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রবেশ করতে পারেন। তবে একজন বিএসসি ডিগ্রিধারীকে এই নবম গ্রেডে প্রবেশ করতে প্রচুর প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যার কারণেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়।
চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো দাবি পূরণ হয়নি। পুলিশ ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গতকাল ঢাকা পলিটেকনিকের সাবেক এক শিক্ষার্থী আমাদের এক বোনকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’