মরক্কোয় আবিষ্কার হওয়া ডাইনোসরের কঙ্কাল ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের

0
15
নতুন সন্ধান পাওয়া ডাইনোসরটির বৈজ্ঞানিক নাম স্পাইকোমেলাস আফারছবি: বিবিসির ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

অদ্ভুত এক ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ডাইনোসরের ঘাড়ের কাছে ছিল লম্বা কাঁটা—দৈর্ঘ্যে এক মিটারের মতো। ডাইনোসরগুলো ১৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর বুকে চলেফিরে বেড়াত। শরীরে বর্ম থাকা ডাইনোসরের প্রজাতি অ্যানকিলোসরাসের সবচেয়ে পুরোনো উদাহরণ কাঁটাওয়ালা এই প্রাণী।

যে ডাইনোসরটির কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটির বৈজ্ঞানিক নাম স্পাইকোমেলাস আফার। এর সন্ধান পাওয়া গেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয়। এই আবিষ্কার বর্মধারী ডাইনোসরের বিবর্তন নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড বাটলার বলেন, এটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া সবচেয়ে অদ্ভুত ডাইনোসরগুলোর একটি।

মরক্কোর বোউলেমান শহরে স্পাইকোমেলাস আফার-এর কঙ্কালের সন্ধান পান একজন কৃষক। তবে কঙ্কালের পুরো অংশ পাওয়া যায়নি। তাই ডাইনোসরটির পুরোপুরি গড়ন কেমন ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন গবেষকেরা। তবে তাঁদের ধারণা, এই ডাইনোসরের দৈর্ঘ্য ছিল চার মিটার। উচ্চতা ছিল এক মিটার। আর ওজন ছিল দুই টনের মতো।

নতুন এই ডাইনোসরটি নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অধ্যাপক রিচার্ড বাটলার। আরেকজন গবেষক হলেন লন্ডনের ন্যাশনাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের অধ্যাপক সুসানাহ মেইডমেন্ট। তাঁরা বলেন, এটা অবাক করার বিষয় যে ডাইনোসরটি কাঁটাগুলো সরাসরি হাড়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। এখনো টিকে থাকা বা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনো প্রাণীতেই এমনটা দেখা যায় না।

দুই অধ্যাপকের গবেষণাটি সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক সুসানাহ মেইডমেন্ট বলেন, ‘স্পাইকোমেলাস আফার-এর পিঠজুড়ে অদ্ভুত কাঁটা এবং উঁচু অংশে ঢাকা ছিল। ঘাড়ের পাশে ছিল হাড়ের তৈরি বর্ম। লেজের শেষের মাথায় ছিল অস্ত্রের মতো দেখতে কাঠামো। এ কারণে এটি ছিল পুরোই অস্বাভাবিক একটি ডাইনোসর।’

এই প্রাণী এমন সময় টিকে ছিল, যখন পৃথিবীতে ডাইনোসর যুগের শেষ সময় চলছিল। সে সময় টিরানোসরাস রেক্সের মতো বিশাল মাংসাশী ডাইনোসরের আবির্ভাব হয়েছিল। অধ্যাপক বাটলার বলেন, সে সময় এই ডাইনোসরগুলোর কবল থেকে বাঁচতে বর্মযুক্ত অ্যানকিলোসরাসের প্রজাতির বিবর্তন হয়। এটি ধারণা করা হয় যে এই প্রজাতির প্রথম দিকের ডাইনোসরগুলোর গড়ন সাধারণ ছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে যে বেশ শক্তিশালী আকার নিয়েই সেগুলোর আবির্ভাব হয়েছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.