বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল

0
22
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য দেননি। হলফনামায় যে এফিডেভিট দিয়েছেন তা সম্পাদনের এক দিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এসব অসংগতির কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমান মান্না আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ফোন ধরেননি।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। তিনি বলেন, নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট সম্পাদনের দিনই মাহমুদুর রহমান মান্না স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী একজন প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের চাপে পড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং নিশ্চিত প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

এদিকে আসনটিতে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। ইসি আপিল নিষ্পত্তি করবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ঋণখেলাপি তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি) নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম অন্তর্ভুক্তের কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আইনত কোনো বাধা নেই বলে জানান তাঁর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।

আফাকু কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের অংশীদার মান্না। এই কোল্ডস্টোরেজের নামে ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখা থেকে নেওয়া ঋণ ঘিরে সিআইবি প্রতিবেদনে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মান্না হাইকোর্টে রিট করেন। কারণ, ঋণখেলাপি হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকে না।

ডাকসুর দুইবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনো তাঁর সংসদে যাওয়া হয়নি। এবার বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। মিত্রদলের নেতা হিসেবে বগুড়া-২ আসনটি তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবশ্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আসনটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নেতা মীর শাহে আলম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.