ফোনালাপ ফাঁস, পদচ্যুত হতে পারেন থাইল্যান্ডের বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা

0
3
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা, ফাইল ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডের সাময়িকভাবে বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করার বিষয়ে আজ শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

আদালতের রায়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা পদচ্যুত হলে সেটি হবে সিনাওয়াত্রা পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা। এ রায় থাইল্যান্ডকে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আদালতের রায় পেতংতার্নের বিরুদ্ধে গেলে ২০০৮ সালের পর তিনি হবেন আদালতের রায়ে পদচ্যুত হওয়া থাইল্যান্ডের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। সমালোচকেরা বলছেন, দেশটির বিচারকেরা মূলত রাজতন্ত্র-সামরিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন।

এ রায়ের মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডে আগাম নির্বাচনের পথ খুলে যেতে পারে।

আদালতে পেতংতার্ন ও তাঁর বাবা সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে চলা গুরুত্বপূর্ণ তিনটির মামলার দ্বিতীয়টির রায় হবে আজ।

৭৬ বছর বয়সী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ছিলেন থাইল্যান্ডের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নায়ক। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। গত সপ্তাহে রাজতন্ত্র অবমাননার অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়। তবে ১৬ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে ২০২৩ সালে দেশে ফেরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি মামলায় আবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে।

পেতংতার্ন শেষ পর্যন্ত পদচ্যুত না হলেও খুব বেশি লাভ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ধাক্কা এবং তাঁর ফেউ থাই পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে সিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বড় সংকটের মুখে আছে।

আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের থাইল্যান্ড স্টাডিজ প্রোগ্রামের ভিজিটিং ফেলো ও ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক নাপন জাতুস্রিপিতাক বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা একেবারেই শেষ হয়ে গেছে।’

গত মে মাসে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সেনা বিরোধকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে পেতংতার্নকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে খুব আনুগত্যের সুরে কথা বলতে শোনা যায়। ওই সময় হুন সেনকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করেন পেতংতার্ন। তিনি একপর্যায়ে এক জ্যেষ্ঠ থাই সেনা কর্মকর্তার সমালোচনা করে তাঁকে নিজের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ বলে উল্লেখ করেন।

এই ফোনালাপ থাইল্যান্ডে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। কেউ কেউ পেতংতার্নের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ করেন। তিনি ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেও সাংবিধানিক আদালত নৈতিক অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশন আমলে নেন এবং তাঁকে সাময়িকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করেন।

আল জাজিরা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.