জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে দুয়েকটি পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ফ্যাসিবাবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যে ঐক্য রয়েছে, সেখানে ফাটল ধরানোর শঙ্কার কথাও বলেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘রাষ্ট্রীয় মদদে মানবতাবিরোধী অপরাধের কৌশল উন্মোচন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথাগুলো বলেন। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে, সবার মধ্যে ঐক্য ফাটলের একটা চেষ্টা কোনো না কোনো পক্ষ নিচ্ছে বলে আমার মনে হয়। যার জন্য আমরা তর্ক করছি, বিতর্ক করছি, সংস্কারের জন্য আলাপ-আলোচনা করছি। কিন্তু নির্বাচনকে নিয়ে যেন দুয়েকটি পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে।’
নির্বাচনে ভোটাধিকার দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশের মানুষ ১৬ বছর সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে। সেই ভোটাধিকারের একটি রাস্তা যখন সুগম হয়েছে, সেই রাস্তায় যেন কোনো কাঁটা বিছানো না হয়।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সংগঠক সানজিদা ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান, মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন, মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব।
আরও বক্তব্য দেন গুমের শিকার বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর, বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সহকারী সদস্যসচিব নাসরীন সুলতানা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত প্রমুখ।
সেমিনার প্রাঙ্গণে ‘আয়নাঘর এর কুশীলবদের গ্রেপ্তার চাই’, ‘খুনির ঠিকানা সেনানিবাস, বিচারহীন রাষ্ট্র নিশ্বাস’, ‘প্রশ্ন একটাই—খুনি কেন আজও মুক্ত’, ‘আগস্টের পর খুনি কীভাবে বর্ডার পার’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা দেয়। সেমিনারে মধ্যভাগে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।