ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

0
15
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বিতাড়িত হওয়া কয়েকজন অভিবাসী একটি উড়োজাহাজে উঠছেনরয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দেশটি এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত সোমবার পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ভিসা বাতিলের তালিকায় প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এবং বিশেষায়িত পেশার ২ হাজার ৫০০ জন কর্মীও আছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র টমি পিগট ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় থাকা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা ও চুরি। তিনি বলেন, এই ভিসা বাতিলের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি অধিকাংশ মানুষের ভিসা বাতিল হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এত বেশিসংখ্যক মানুষের ভিসা বাতিলের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প অভিবাসীদের ওপর যে দমননীতি শুরু করেছিলেন, তা কতটা ব্যাপক।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, তারা ২৫ লাখের বেশি মানুষের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ কিংবা জোরপূর্বক বিতাড়িত হওয়ার ঘটনা তত্ত্বাবধান করছে। একে একটি ‘রেকর্ডভাঙা অর্জন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এর মধ্যে বৈধ ভিসা থাকার পরও কিছু মানুষকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এতে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিসর বাড়ানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা এ ধরনের অপরাধীদের বিতাড়িত করার কাজ অব্যাহত রাখব।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র টমি পিগট ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় থাকা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা ও চুরি। তিনি বলেন, এই ভিসা বাতিলের সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পিগট আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সব বিদেশি নাগরিক আইন মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এবং যাঁরা মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত, তাঁদের ভিসা দ্রুত বাতিল করতে পররাষ্ট্র দপ্তর কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার বা সার্বক্ষণিক যাচাই কেন্দ্র চালু করেছে। দেশটিতে কারা প্রবেশ করতে পারবে, তা সীমিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

ভিসা আবেদনকারীদের প্রতি সতর্ক থাকতে পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছে। আবেদনকারীদের কেউ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শত্রুভাবাপন্ন কি না কিংবা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস আছে কি না, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নভেম্বরে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে হামলা–চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে প্রায় ৮০ হাজার অস্থায়ী ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘অপরাধীদের তাড়াতে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি’ তদারক করবেন। ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভিসাধারীদের মধ্যে যাঁরা অপরাধী, তাঁদের পাশাপাশি যাঁরা অপরাধী নন, তাঁদেরও ট্রাম্প প্রশাসন নিশানা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহমত পোষণ না করা ভিসাধারীদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যেমন গত মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী কার্যক্রমে যুক্ত শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের ভিসা প্রত্যাহারের অভিযান শুরু করে। গত অক্টোবরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে, রক্ষণশীল অ্যাকটিভিস্ট চার্লি কার্ক নিহত হওয়ার ঘটনা ‘উদ্‌যাপন’ করায় ছয়জন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

তবে এসব ঘটনায় মার্কিন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণকারী প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান চলাকালে বল প্রয়োগের ব্যবহার নিয়েও ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আল–জাজিরা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.