গত জুনে নিজেই বলেন, কোনো একদিন ফ্রান্সের কোচ হতে চান। তাঁর সাবেক সতীর্থ থিয়েরি অঁরি জানিয়েছিলেন, ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হতে অন্য কোথাও দায়িত্ব নিচ্ছেন না জিদান। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ার পর জিদানের কোচ হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই আসন্ন বলে মনে করেছিলেন অনেকে।
তবে এফএফএফ শেষ পর্যন্ত বর্তমান কোচ দেশমের সঙ্গে আরও চার বছরের জন্য চুক্তি করে। এরপর আরএমসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিদানকে কোচ না বানানো নিয়ে বেশ কয়েকটি মন্তব্য করেন এফএফএফের প্রধান গ্রায়েত। যার একটি ছিল এরকম, ‘জিদান যদি আমাকে ফোন করত, তাহলে কী হতো? নিশ্চিতভাবে কিছুই হতো না। আমি ওর ফোনই তুলতাম না।’
জিদানের এখন ভবিষ্যত কী, তিনি কি ব্রাজিলের কোচের প্রস্তাব পেলে গ্রহণ করবেন? এমন প্রসঙ্গ উঠলে গ্রায়েত বলেন, ‘জিদান ব্রাজিলে? আমার কিছু আসে–যায় না। সে যা চায় করুক। আমার ভাবার বিষয় নয় এটা। ওর সঙ্গে আমি কখনোই এ নিয়ে আলাপ করিনি। দেশমের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের কথা আমরা কখনোই ভাবিনি।’
এফএফএফের প্রধানের এ মন্তব্যটি রিটুইট করে ফ্রান্স সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী কাস্তেরা লেখেন, ‘আবারও মাত্রা ছাড়ানো মন্তব্য। একজন খেলাধুলা ও ফুটবল জগতের কিংবদন্তির প্রতি সম্মান না দেখানোটা লজ্জাজনক, যেটা আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে। ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হয়ে এভাবে কথা বলা উচিত নয়। মাত্রা ছাড়ানো বক্তব্যটির জন্য দয়া করে জিনেদিন জিদানের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন।’
ফেডারেশন প্রধানের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্স ফুটবলের এ সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২৪ বছর বয়সী পিএসজি তারকা টুইটারে লিখেছেন, ‘জিদানই ফ্রান্স, কিংবদন্তিকে আমরা এভাবে অসম্মান করতে পারি না।’
জিদানের সঙ্গে বিশ্বকাপ জেতা সাবেক খেলোয়াড় ইউরি জোরকায়েফ মনে করিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্স ফুটবলে জিদান কী, ‘কথাগুলো স্বাগত জানাতে পারছি না। এগুলো ফালতুভাবে বলা। (মনে রাখতে হবে) আমরা একজন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের কথা বলছি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।’
আরেক সাবেক ফুটবলার ফ্রাঙ্ক রিবেরির টুইটে ছিল গ্রায়েতের প্রতি খোঁচা, ‘আপনি আমাকে অভিভূত করেছেন। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, জিজুর সঙ্গে দ্রুতই পরামর্শ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
ক্ষমা–প্রার্থনা বক্তব্যে সাক্ষাৎকার নেওয়া সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে গ্রায়েত বলেন, ‘আরএমসিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া আমার উচিত হয়নি। ওরা ফ্রান্স ফুটবলের দুই সেরা খেলোয়াড়ের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করতে চেয়েছিল।’